প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। কর্মসূচিটির নাম 'যুব, স্টার্টআপ ও প্রতিশ্রুতিবান বাংলাদেশ'। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল যুবসম্প্রদায়ের উদ্ভাবনী ধারণা, সৃজনশীলতা এবং উদ্যোগপরায়ণ সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের প্রধান ধারায় সংহত করা।
অনুষ্ঠানের বিবরণ
অনুষ্ঠানটি আগামীকাল সকাল ৯:৩০ ঘটিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে এই কর্মসূচিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশেষ অতিথিরা
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি) রেহান আসিফ আসাদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অভিনন্দন জানাবেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অভিযাত সচিব মোঃ মামুনুর রশিদ ভূঁইয়া প্রবর্তনমূলক ভাষণ দেবেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপণন বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ এমডি মোর্শেদ হাসান খান স্বাগত ভাষণ দেবেন। অধ্যাপক ডাঃ খান ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির একজন সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন।
অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হবে। এরপর 'গল্প নয় সত্যি' শিরোনামে সাফল্যময় স্টার্টআপগুলোর অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির অধিবেশন থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্টার্টআপ সম্পর্কিত বিষয়ে খোলা মঞ্চ আলোচনা হবে এবং নির্বাচিত স্টার্টআপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হবে।
জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোগপরায়ণতা প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হবে 'জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোগপরায়ণতা প্ল্যাটফর্ম' এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। এই প্ল্যাটফর্মটি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি জাতীয় ডিজিটাল লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য, সরকারি সহায়তা কর্মসূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, পরামর্শদান, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার সংস্থা এবং সম্পর্কিত পরিষেবাগুলো এক ছাদের নিচে অ্যাক্সেস করতে পারবেন।
উদ্যোগের লক্ষ্য
এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল উদ্যোগপরায়ণতা উন্নয়নে সমন্বয় বৃদ্ধি করা, পরিষেবা প্রদানের সহজীকরণ এবং একটি কার্যকর জাতীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বর্তমানে বিভিন্ন সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে যাতে যুবসম্প্রদায়ের উদ্ভাবনী ধারণাগুলোকে বাস্তব বিশ্বের উদ্যোগে রূপান্তরিত করা, প্রযুক্তি ভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরি করা, গবেষণাকে উৎসাহিত করা এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা যায়।
সমর্থন ও অর্থায়ন
উদ্যোক্তাদের সমর্থন করার জন্য বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ঘোষণাপত্র ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোগপরায়ণতা উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হিসেবে উদ্যোগপরায়ণতা উন্নয়নকে এখন জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, ইতিমধ্যে টাকা ৫০০ কোটির একটি স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হয়েছে যা প্রতিশ্রুতিশীল উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে অর্থায়ন ও পুষ্ট করবে। উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে অনুষ্ঠানটি সাধারণ জনসাধারণের জন্য বিকেল ১:০০ ঘটিকা থেকে উন্মুক্ত থাকবে।






























