প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান দেশ পরিষ্কার রাখতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, দেশটিকে সুন্দর, নিরাপদ এবং বাসযোগ্য করতে চাইলে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
গৌরনদী উপজেলায় সারিকাল-বাতাজোর খালের তীরে গাছ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর স্থানীয় গ্রামবাসীদের সম্বোধন করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখি না এবং নিজেরা দেশ পরিষ্কার রাখি না, তাহলে দেশ কখনও পরিষ্কার থাকবে না। বাইরের কেউ আসে না আমাদের দেশ পরিষ্কার করতে। আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে যদি আমরা দেশটিকে সুন্দর করতে চাই।
পরিবেশ রক্ষার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কাছে অনুরোধ করেন যে আমরা সবাই চেষ্টা করবো যাতে কোথাও কোথাও কচরা ছড়ানো যায় না। খালি পানির বোতল বা অন্য কিছু ব্যবহার করে ফেলার পর যে কোনো জায়গায় ছুঁড়ে ফেলা যায় না।
তিনি বলেন, যখন আমরা কোনো প্যাকেটে কিছু বহন করি এবং প্যাকেটটি আর প্রয়োজন হয় না, তখন আমরা প্রায়ই যে কোনো জায়গায় ছুঁড়ে ফেলি। এটি পরিবেশের ক্ষতি করে। যদি পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের শিশুরা ভুগবে।
ব্যক্তিগত অভ্যাসের উদাহরণ
ব্যক্তিগত অভ্যাসের উদাহরণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি আপনি এখন আমার পকেট চেক করেন, তাহলে সেখানে একটি টিস্যু পাবেন। আমি এটি কিছুক্ষণ আগে হাত ধোয়ার পর ব্যবহার করেছি এবং পকেটে রেখেছি। যদি আমি এটি এখানে ছুঁড়ে ফেলতাম, তাহলে আমি যা বলছি তা অনুসরণ করতাম না। সেই কারণে আমি ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস গড়ে তুলেছি যে ব্যবহৃত টিস্যু রাখবো। আমার যে কোনো প্যান্টের পকেট চেক করলে ব্যবহৃত টিস্যু পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিস্যুগুলো আমার পকেটে সারাদিন জমা হয়। রাতে যখন আমি বাড়ি ফিরি, তখন আমি সেগুলো ডাস্টবিন বা যেখানে কচরা ফেলা উচিত সেখানে ফেলে দিই। আমি সচেতনভাবে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছি এবং ধীরে ধীরে সাফল্য অর্জন করেছি।
দেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি আজ থেকেই এই অভ্যাস গড়ে তুলি, তাহলে আমরা একটি পরিষ্কার এবং সুন্দর দেশ গড়তে পারবো। আমাদের পরিবেশ উন্নত হবে। সবাই আমাদের দেশের প্রশংসা করবে। শুধু আমাদের নিজের মানুষই নয়, বিদেশ থেকে আগত পর্যটকরাও বলবে যে বাংলাদেশ একটি পরিষ্কার এবং সুন্দর দেশ যেখানে মানুষ তাদের পরিবেশের যত্ন নেয়।
সারিকাল-বাতাজোর খালে দুটি প্লাস্টিকের বোতল ভাসমান দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেখুন, খালে প্লাস্টিকের বোতল ভাসছে। যদি একটি পরিবারে পাঁচ বা সাতজন মানুষ থাকে এবং শুধুমাত্র একজন মানুষ বাড়ি পরিষ্কার করে যখন অন্যরা সারাদিন বাড়ি নোংরা করে, তাহলে কি বাড়িটি পরিষ্কার রাখা সম্ভব?
তিনি বলেন, দেশটি ঠিক আমাদের বাড়ির মতো। যদি কেবল কয়েকজন মানুষ পরিষ্কার করে যখন অন্যরা নোংরা করে থাকে, তাহলে পরিষ্কার রাখা সম্ভব হবে না। আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে দেশটিকে পরিষ্কার রাখতে। কচরা শুধুমাত্র যেখানে ফেলা উচিত সেখানেই ফেলা উচিত।
স্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা যে কোনো জায়গায় কচরা ছুঁড়ে ফেলি, তাহলে না শুধুমাত্র অপ্রিয় দেখায়, বরং পরিবেশ দূষিত হয়। যখন আপনি বরিশাল শহরে বা ঢাকায় বাসে ভ্রমণ করেন, তখন দেখতে পান যে বাজার এবং দোকানগুলো কচরার ঢিবি দিয়ে ঘেরা। কেউ কচরা দেখতে পছন্দ করে কি?
তিনি বলেন, এটি পরিবেশকে নোংরা করে, অপ্রিয় দেখায় এবং দূষণের কারণ হয়। এই দূষণ আমাদের স্বাস্থ্যকেও ক্ষতি করে। সুতরাং আমরা সবাই একসাথে কাজ করে আমাদের দেশকে সুন্দর করতে চাই।
ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর দেশ গড়ার আহ্বান
ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং সুন্দর দেশ গড়ার জন্য প্রত্যেকের অবদানের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই গাছ রোপণের দিনে আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি যে, আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রত্যেকে যা করতে পারে তা করবে আমাদের পরিবেশের যত্ন নেওয়ার জন্য। আমরা যতটুকু সম্ভব আমাদের বাড়ি, রাস্তা এবং পাড়াগুলো রক্ষা এবং পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করবো।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহিরউদ্দিন সোপন উপস্থিত ছিলেন।






























