সরকার দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা, ভূমিধস, পাহাড়ের ধস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন অভিযান চালানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি
চট্টগ্রাম জেলার সব ১৫টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরী বন্যার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস বন্যার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করার জন্য জরুরি জনসচেতনতা অভিযান চালাচ্ছে। অন্যান্য জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
পূর্ব-উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি
খাগড়াছড়ি জেলায় বর্তমানে বৃষ্টিপাত নেই এবং নতুন ভূমিধস বা পাহাড়ের ধসের কোনও নতুন ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি। বন্যার পানি বেশিরভাগ স্থান থেকে অপসারিত হয়েছে যদিও স্বাভাবিক পরিস্থিতি এখনও পুনরুদ্ধার হয়নি। খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিস ভূমিধস, বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতা বার্তা প্রচার করে চলেছে।
কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে ৭৪টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় বন্যার পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং কোনও নতুন ভূমিধস বা পাহাড়ের ধসের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি।
রাঙ্গামাটি জেলায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ভারী বৃষ্টিপাতের শুরু থেকেই রাঙ্গামাটি জেলা তথ্য অফিস ভূমিধস প্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করার জন্য জনসচেতনতা অভিযান চালাচ্ছে।
বর্তমানে বান্দরবান জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানিপরিমাণ নিরাপদ সীমার নীচে রয়েছে এবং বন্যার পানি প্রত্যাহার হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বর্তমান অবস্থা
সিলেট জেলায় গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩৩.৪ মিলিমিটার এবং সকাল ৬ টা থেকে ৯ টার মধ্যে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির সাথে সাথে সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন এবং পিয়াইন নদীর পানিপরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা নদী নিরাপদ সীমার নীচে বয়ে চললেও কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নিরাপদ সীমার উপরে বয়ে চলছে।
সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যার সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীর পানিপরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কুশিয়ারা নদী মার্কুলি পয়েন্টে নিরাপদ সীমার উপরে বয়ে চলছে।
হবিগঞ্জ জেলায় খোয়াই নদীর ভাঙনের কারণে হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল এবং বানিয়াচং উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছিল। বৃষ্টিপাত হ্রাসের সাথে সাথে বন্যার পানি প্রত্যাহার হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪.৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং কোনও ভূমিধসের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি। জেলা তথ্য অফিস বন্যার সময় এবং বন্যা পরবর্তী সময়ে জনসচেতনতা অভিযান চালাচ্ছে।
মৌলভীবাজার জেলায় বন্যার সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। মানু নদী নিরাপদ সীমার নীচে বয়ে চলছে। পনেরটি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বন্যার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি পাচ্ছে। কামালগঞ্জ উপজেলায় নদী বাঁধে ফাটল দেখা গেছে। জেলা তথ্য অফিস বন্যার সময় এবং বন্যা পরবর্তী সময়ে জনসচেতনতা অভিযান চালাচ্ছে।





























