চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমীতে ভারতে রাম নবমী উৎসব পালিত হয়। এই দিনে রামের জন্ম হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। রাম নবমী হল শুভ শক্তির বিজয় উদযাপনের দিন।
পুরাকালে অযোধ্যার রাজা দশরথের তিন রানি ছিলেন কৌশল্যা, কৈকেয়ী ও সুমিত্রা। দশরথ ও কৌশল্যা পূর্বজন্মে দেবীর এক আশীর্বাদ লাভ করেন, যে আশীর্বাদে ছিল ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতারের পিতামাতা হওয়ার দুর্লভ সম্মান।
বিবাহের বহু বছর পরও তাঁদের কোনো সন্তান হচ্ছে না দেখে রাজা দশরথ সরযূ নদীর তীরে পুত্রকামেষ্ঠি যজ্ঞ করেন। যজ্ঞশেষে অগ্নিদেব রাজা দশরথকে দিব্য পায়েষান্ন্য দিলেন, যা তিনি তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন।
রানিরা তিনজনেই এরপর গর্ভবতী হন। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে দশরথের প্রথম স্ত্রী কৌশল্যা একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। সেদিন আরও তিন পুত্রের জন্ম দেন কৈকেয়ী ও সুমিত্রা। তাঁরা হলেন ভরত, লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্ন।
এই চার পুত্রের জন্ম অযোধ্যা নগরীর উপর দেবতারা পুষ্পবৃষ্টি করেন। রাম নবমী বৈদিক যুগেও পালিত হত। মধ্যযুগে ভারতে ভক্তি আন্দোলনের সময় এটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।
এই উপলক্ষ্যে ভগবান রামের ছোট মূর্তি তৈরি করে তাঁকে পোশাক পরানো, স্নান করানো এবং পরে দোলনায় রাখা হয়। অনেকেই দিনভর উপবাস বা ব্রত পালন করেন, পবিত্র সরযূ নদীতে স্নান করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও এই পবিত্র তিথিকে যথাযোগ্যভাবে স্মরণ করে থাকেন। সর্বত্র মন্দির আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। সেখানে রামায়ণ পাঠ, ভজন ও কীর্তন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়ে থাকে।
বিভিন্ন শহরে রাম, সীতা ও লক্ষ্মণের মূর্তিশোভিত শোভাযাত্রা বের হয়। বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসে। অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির বিজয় এবং আদর্শ জীবনবোধে সত্য, ন্যায়পরায়ণতা, ত্যাগ ও সৌহার্দ্যের গুরুত্ব উপলব্ধি ও জাগ্রত করাই এই উৎসব পালনের মূল লক্ষ্য।




















