মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে উচ্চারিত স্তোত্র পাঠ না শুনলে মায়ের আগমনী সুরটা যেন ঠিক বেজে ওঠে না। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী সঙ্গীতালেখ্য ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’ জনপ্রিয় প্রভাতী বাংলা বেতার আকাশবাণীর সর্বাধিক কাল ধরে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানের নাম। ১৯৩১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি মহালয়ায় এই অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ দুর্গা সপ্তশতী থেকে দেবী চণ্ডীর স্তোত্রপাঠ, বাংলা ভক্তিগীতি, ধ্রুপদীসঙ্গীত এবং বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীর নাট্যরূপ। এই অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন পঙ্কজ কুমার মল্লিক এবং গ্রন্থনা ও স্তোত্র পাঠ করেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।
১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রচারিত হতো। এরপর থেকে নানা কারণে ১৯৬৬ সালের রেকর্ডটি বাজানো হয়। ১৯৭৬ সালে সরকারমহলের চাপে আকাশবাণী মহিষাসুরমর্দিনীর পরিবর্তে ‘দেবীং দুর্গতিহারিণীম্’ নামে একটি ভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করেন। যেখানে শ্লোকপাঠ করেন উত্তমকুমার এবং সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।
কিন্তু বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পরিবর্তে অন্য কারো চণ্ডীপাঠ মেনে নিতে পারে নি সাধারণ জনগণ। বাধ্য হয়ে পরবর্তীতে দুর্গাষষ্ঠীর দিন পুনরায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে অনুষ্ঠিত পূর্বের ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’ সম্প্রচার করা হয়। সম্প্রতি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সম্মানে এই ঘটনাটি নিয়ে ‘মহালয়া’ নামে কলকাতায় একটি সিনেমাও নির্মাণ করা হয়।




















