দোল পূর্ণিমা বা দোল উৎসব হলো বাঙালির এক বিশেষ পার্বণ, যা ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উদ্যাপিত হয়। এই উৎসবে শ্রীকৃষ্ণ, রাধা এবং তার গোপীগণের সঙ্গে হোলি খেলার ঘটনা থেকে এই উৎসবের উৎপত্তি হয়েছে। দোল পূর্ণিমা মূলত হিন্দু বৈষ্ণবদের উৎসব, যেখানে রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরে রাঙিয়ে দোলায় চড়িয়ে নগর কীর্তনে বের হওয়া হয়।
দোল পূর্ণিমা শুধুমাত্র দেবতাকে রাঙিয়ে তোলা নয়, এই উৎসবে জীবনের নানা রং মিশে যায়। দোল উৎসবে উদ্যাপনের বৈচিত্র্য এবং মেলা দেখা যায়। আধুনিক বাংলায় দোল উৎসবের সূচনা করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৭ সালে তার ছোট ছেলে শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুরু করেছিলেন ঋতুরঙ্গ উৎসব, যা আজকের বসন্ত উৎসব হিসেবে পরিচিত।
দোল এবং হোলি একই রকম মনে হলেও এ দুটি মূলত আলাদা অনুষ্ঠান। দোল নিতান্তই বাঙালিদের উৎসব, আর হোলি অবাঙালি হিন্দুদের উৎসব। বাঙালি সমাজে দোলযাত্রাকে বসন্তের আগমনী বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই উৎসবের মাধ্যমে বসন্তকে স্বাগত জানানো হয়, যা কৃষি মৌসুমের সূচনা করে, অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয় এবং চিরন্তন প্রেমের ঘোষণা করে।






























