মাথায় গুলির ক্ষত ও শরীরে ৩৬ ফাটলের চিহ্নসহ জুলাই লড়াকু শেখ আজিজুর রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সাথে দেখা করেছেন। এ দেখায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দিয়েছেন তার রক্তাক্ত জাতীয় পতাকা। প্রধানমন্ত্রীর অফিসে মধ্যাহ্নে এ দেখা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব এমডি সুজৌদ্দৌলা (সুজান মাহমুদ) বলেছেন, 'প্রামাণ্য মাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছিল ছাত্রদল সংশ্লিষ্টতার কারণে জুলাই লড়াকু হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়া আজিজুরের বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমানকে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারপরই আজিজুরের সাথে প্রধানমন্ত্রীর দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।'
দেখায় আজিজুর তার সংগ্রাম, দুর্দশা ও বলিদানের কাহিনী প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন। তার ক্ষত, শিক্ষা, সিএনজি-চালিত অটো-রিক্সা চালিয়ে শিক্ষার খরচ বহন এবং চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞাসা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী আজিজুরের জীবনযাত্রার কঠিন পথ জানে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন এবং সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে রক্তাক্ত পতাকা তুলে দিয়ে আজিজুর বলেছেন, তিনি অত্যন্ত খুশি ও উদ্দীপ্ত হয়েছেন এই দেখায়। তিনি বলেছেন, তার ব্যথা শোনা এবং অবস্থা জানতে চাওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই কাজ তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। তিনি বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই রক্তাক্ত জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন এবং তা অবশেষে পূরণ হয়েছে।
শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাংলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের সম্মান স্তরের শিক্ষার্থী এবং কলেজ ইউনিট ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা থেকে এসেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের জনৈক্য আন্দোলনে মিরপুর-১০ ফ্লাওভারে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে আজিজুর প্রথমবার নজরে এসেছিলেন। পরে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। মাথায় গুলির আঘাতে রক্তপাত বন্ধ করতে তিনি মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধেছিলেন, যা রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। সেই অবস্থায়ও তিনি রাস্তা ছেড়ে যাননি। পরে তাকে ১৯ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২১ জুলাই দুইদিনের রিমান্ডের পর মুক্তি দেওয়া হয়। তার বলিদান ও সাহসের পরও দুই বছর ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আজিজুরকে জুলাই লড়াকু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। পরিবারের সমর্থন ও শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে সিএনজি-চালিত অটো-রিক্সা চালাতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মানবিক হস্তক্ষেপের ফলে এখন আজিজুরের বলিদানের যথাযথ স্বীকৃতির পথ প্রশস্ত হয়েছে।






























