জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের অফিস (ওএইচসিআর) তদন্তে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অপহরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বাধ্যতামূলক অদৃশ্যকরণে জড়িত ছিল। এই তদন্তের ফলাফল আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নিশ্চিত করেছে। ওএইচসিআর তদন্তে দেখা গেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ছাত্র নেতাদের অপহরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিল।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ছাত্র নেতাদের অপহরণ করে তাদের বিক্ষোভ থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছিল। তদন্ত কমিশন আরও জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) ছাত্র নেতাদের অপহরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিল।
ওএইচসিআর তদন্তে দেখা গেছে যে, ডিবি অপহরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তথ্য আহরণ করেছিল। কৌন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের হেডকোয়ার্টারে অনেক মানুষকে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে আটক রাখা হয়েছিল।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছে যে, ডিজিএফআই, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই) এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিরোধী মতামত দমন করার জন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিল। ওএইচসিআর তদন্তে দেখা গেছে যে, এই সংস্থাগুলো অবৈধভাবে অনেক মানুষকে আটক রেখেছিল।
ওএইচসিআর তদন্তে দেখা গেছে যে, ডিজিএফআই, এনএসআই এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (আরএবি) মিডিয়াকে সম্পূর্ণ ও সত্যি খবর প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিল। এছাড়াও, ডিজিএফআই পুলিশের সাথে যৌথভাবে শিকারদের, তাদের পরিবার এবং আইনজীবীদের মৌন রাখার জন্য ভয় দেখিয়েছিল।
ওএইচসিআর তদন্তে দেখা গেছে যে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়িত্ব শুধুমাত্র নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নয়, বরং তৎকালীন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের উচ্চতম স্তরের দায়িত্ব। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে পরিচালনা করতেন এবং মাঠের অবস্থার নিয়মিত রিপোর্ট পেতেন।
ওএইচসিআর তদন্তে দেখা গেছে যে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আরএবি, ডিজিএফআই, বাংলাদেশ পুলিশ এবং তার গোয়েন্দা শাখার বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অনুমোদন এবং নির্দেশ দিয়েছিল। ওএইচসিআর তদন্তে দেখা গেছে যে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনকে অনুমোদন এবং পরিচালনা করেছিল।







































