মিয়ানমারে জান্তা সরকারের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আইন কার্যকরের পর বিদ্রোহী বাহিনীর অগ্রযাত্রা থমকে গেছে। জোরপূর্বক নিয়োগ করা বিপুল সেনা জান্তার শক্তি অনেক বাড়িয়েছে; পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে করা নিরাপত্তাচুক্তিও তাদের বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে। অন্যদিকে চরম অর্থ ও অস্ত্রসংকটে থাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এখন দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে থমকে গেছে তাদের এত দিনের অগ্রযাত্রা।
বিবিসির কুয়েন্টিন সামারভিল এই বিষয়ে প্রতিবেদন করেছেন। তাঁর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারের জান্তা সরকার ২০২৪ সালে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ আইন কার্যকর করেছে। ওই আইনে সেনাবাহিনীতে ন্যূনতম দুই বছর সেবা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জোর করে নিয়োগ দেওয়া এই সেনারাই সবচেয়ে বেশি পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন।
পিডিএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার কো কাউং বলেন, ‘সামরিক বাহিনীর বাধ্যতামূলক নিয়োগ আমাদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কারণ, এর ফলে সামরিক বাহিনী সীমাহীন জনবল পেয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বেলায় প্রযুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আমাদের সম্পদ খুবই সীমিত। সীমিত অর্থের কারণে আমরা প্রয়োজনীয় উপাদান যতটা দরকার, ততটা সংগ্রহ করতে পারি না এবং সামরিক বাহিনীর মতো সহজে নতুন সেনা নিয়োগও করতে পারি না।’
দা ওয়া মিয়ানমারের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সাড়ে চার বছর কারাগারে ছিলেন। তিনি বলেন, অনেকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীতে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তাঁরা যোদ্ধা হিসেবে ধীরে ধীরে উন্নতি করছেন। কারণ, তাঁরা আদেশ মানতে আরও দক্ষ হয়ে উঠছেন।
দা ওয়া বলেন, ‘এখন আমরা জোড়ায় জোড়ায় বিমান দেখি, আগে সাধারণত একটিই ফিক্সড-উইং বিমান দেখা যেত।’ ড্রোনের ক্ষেত্রেও এখন জান্তা বাহিনী প্রযুক্তি ও সংখ্যার দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন দা ওয়া। তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করেন কো কাউং।
এসবের বাইরে আরও কিছু বিষয় যুদ্ধের পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে। যেমন চীনের উদ্যোগে কয়েকটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি। মিয়ানমারে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন। কারেন ও কাচিন রাজ্য থেকে দেশটি বিরল খনিজ আহরণ করছে। এ জন্য চীন কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে মধ্যস্থতা করিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিরোধ বাহিনীর কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহও কঠোরভাবে সীমিত করেছে।
যুদ্ধে আহত প্লাটুন কমান্ডার কিয়ার সোয়ে বলেন, ‘অস্ত্রের ঘাটতি একটি বড় সমস্যা।’ জঙ্গলের গভীরে একটি অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রে কিয়ার সোয়ের চিকিৎসা চলছে। সেখান থেকে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সবাই লড়াই করতে চায়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।’



















