দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের নারী ডুবুরিরা কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রতলে কাটিয়ে শামুক, ঝিনুকসহ নানা সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ করেন। হেনিয়ো বা ‘সমুদ্র নারী’ নামে পরিচিত এই অনন্য নারীদের দেখতে গিয়েছিলেন তানজিনা হোসেন।
হেনিয়োরা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো এক বিস্ময়। তাঁদের অসাধারণ দক্ষতার কারণে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন এই নারীরা। বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ এবং বংশপরম্পরায় আত্তীকরণের মাধ্যমে তাঁরা এই অনন্য দক্ষতা অর্জন করেছেন।
বালিকাদের বয়স ১০-১১ বছর হলেই শুরু হয় হেনিয়োদের প্রশিক্ষণ। দীর্ঘ সাত বছর প্রশিক্ষণ শেষে একটি মেয়ে হেনিয়ো হওয়ার দক্ষতা অর্জন করে। বর্তমানে এই দ্বীপে ৮০ বছর বয়স্কা হেনিয়োও আছেন।
এককালে হেনিয়োরা সাধারণ সুতি জামা পরেই সমুদ্রে নামতেন। বর্তমানে তাঁরা ডাইভিং মাস্ক, ওয়েট স্যুট, বুকের ওপর শক্ত বেল্ট, ফিন আর গোল ভাসমান বলের সঙ্গে যুক্ত একটা জাল ব্যবহার করেন। এতে তাঁরা পানিতে একটানা ৬ ঘণ্টা থাকতে পারেন।
হেনিয়োরা সমুদ্রের প্রায় ২০ মিটার বা ৬৬ ফুট নিচে চলে যান, সমুদ্রের তলদেশে শ্বাস আটকে বিচরণ করতে পারেন টানা ৩ মিনিট। এই বিশেষ শ্বাসপ্রশ্বাস কৌশলের নাম ‘সামবিসোরি’।
জেজু দ্বীপের নারীরাই শক্তি ও প্রকৃতির প্রতিনিধি। ডুবসাঁতার দিয়ে আগাছা কুড়োনোর এ পেশা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীনতম পেশা। সপ্তদশ শতাব্দী থেকে এটি নারীকেন্দ্রিক পেশা হয়ে ওঠে।
জেজু ও এ–সংলগ্ন ‘মারা’ দ্বীপে পুরুষেরা বিবাহের সময় যৌতুক দিতেন, কন্যাশিশু জন্মকে এখানে বিশেষভাবে উদ্যাপন করা হতো। পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও ট্যানজারিন চাষে বিপ্লব হওয়ার পর থেকে জেজুর প্রাচীন পেশা ও সমাজব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এসেছে।
২০১৬ সালে ইউনেস্কো জেজুর নারীদের এই অনন্য শক্তিমত্তা, দক্ষতা ও সাহসের কারণে হেনিয়ো পেশাকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’–এর মর্যাদা দান করেছে।





























