প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উপ-সভাপতি ডাঃ জুবায়দা রহমান আজ বলেছেন, চিকিৎসা বিজ্ঞান অধ্যয়ন করার সুযোগ পাওয়া ছাত্ররা দেশের সবচেয়ে প্রতিভাবান ছাত্রদের মধ্যে একজন। তবে একজন চিকিৎসকের কাছে মানবিক হৃদয় থাকতে হবে যাতে রোগীদের সেবা করে সে নিজেই পূর্ণতা লাভ করতে পারে।
হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও 'এক্সিলেন্স ইন এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখাকালীন ডাঃ জুবায়দা রহমান এই মন্তব্য করেন। তিনি আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের কঠোর শিক্ষাগত অধ্যয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশংসা করেন।
ডাঃ জুবায়দা রহমান আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে প্রতি ১০০০ জন মানুষের মধ্যে মাত্র ০.৮৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন, এবং প্রতি চিকিৎসক গড়ে ১২০০ থেকে ১৮০০ রোগীকে সেবা প্রদান করেন।
এই সঙ্কট গ্রামীণ অঞ্চলে আরও তীব্র বলে তিনি জানান। ডাঃ রহমান বলেন, চিকিৎসকদের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ শহুরে অঞ্চলে কাজ করেন, যখন দেশের ৭৮ শতাংশ জনসংখ্যা গ্রামে বসবাস করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত মানদণ্ডের তুলনায় নার্সদের সংখ্যাও অনেক কম।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের অনুপাতও খুব কম হওয়ায়, চিকিৎসার ব্যয় এখনও দারিদ্র্যের একটি প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। যদি ছাত্রজীবন থেকেই দেশসেবা করার প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা সম্ভব হবে।
ডাঃ জুবায়দা রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে, অনেক ছাত্রই উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে আসবেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবেন এবং সঙ্কটের সময় চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন। তিনি বলেন, এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার যেখানে গ্রামের কোনও মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে না, এবং কোনও গর্ভবতী মায়ের বা নবজাতকের মৃত্যু ঘটবে না যা প্রতিরোধযোগ্য।






























