প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে শিক্ষা অধিদপ্তরের মূল ফটকের সামনে অবস্থান গ্রহণ করেন। প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। বিকেল ৪ টার দিকে পুলিশের ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যান আন্দোলনকারীরা।
আজ সকাল ১০টা থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে জড়ো হতে থাকেন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা। বেলা ১১টায় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করতে যান। স্মারকলিপিতে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সকল প্রার্থীর অনতিবিলম্বে নিয়োগপত্র প্রদান এবং প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধিরা জানান, মহাপরিচালক বলেছেন, স্মারকলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। দ্রুত নিয়োগের ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের অনেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, প্রজ্ঞাপন জারির দাবি বাস্তবায়ন। ফরিদপুর থেকে আগত একজন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বলেন, ‘শুধু আন্দোলনের উদ্দেশ্যে আজ সকালে ঢাকা এসেছি। আমরা চারজন একসাথে এসেছি, একটি হোটেলে উঠেছি। এভাবে তো দিনের পর দিন থাকা সম্ভব না। কাল/পরশু আবার চলে যাব।’
এ ছাড়া বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসেছেন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা। কর্তৃপক্ষের আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ ঘোষণার দাবি জানান। এ সময় তারা অধিদপ্তরের মূল ফটকের সামনে বসে পড়েন। ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শিক্ষা অধিদপ্তর। এ সময় অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার গাড়ি বের হতে পারেনি। তবে পায়ে হেঁটে ভেতরে ঢুকতে এবং বের হতে কাউকে বাধা প্রদান করেননি আন্দোলনকারীরা।
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়। আন্দোলনকারীরা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে অবরোধ চালিয়ে যান।
এ সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলেন। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্যও একই অনুরোধ জানালেও বাকিরা তা প্রত্যাখ্যান করে প্রজ্ঞাপনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ছাড়া অবস্থান ত্যাগ না করবেন না বলে জানান।
বেলা ৩টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ এবং একটি জলকামান মোতায়েন করা হয় রাজধানীর মিরপুরে শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে। ৪টায় পুলিশ তাদের অবরোধ তুলে নিতে বললেও আন্দোলনকারীরা অবরোধ বজায় রাখেন। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ লাঠি নিয়ে ধাওয়া দিলে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। কয়েকজন পুলিশ সদস্য আন্দোলনকারীদের লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে আহত হন অন্তত ৪ জন।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা মূল সড়কে অবস্থান নেন। সেখান থেকেও তাদের তুলে দেয় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের একটি অংশকে মিরপুর ১ এবং আরেকটি অংশকে মিরপুর ১০ গোলচত্বর এর দিকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।
আজ (২৭ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা ৬:৩০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করবেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। সংবাদ সম্মেলন থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য।




















