মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে গত মে মাসে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তেহরান নৌ অবরোধকে অবৈধ মনে করে এবং নিজেদের বন্দরের আশপাশে জাহাজ জব্দ করাকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে যে নৌ অবরোধ শুরু করে ওয়াশিংটন, তা ইরানকে শান্তিচুক্তির শর্ত মেনে নিতে চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ। মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস সংকুচিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ এখন ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে। ফলে দেশটি কত দিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বাণিজ্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট রপ্তানি দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল থেকে ৩ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে এসেছে। মে মাসে ইরানের তেল থেকে আয় প্রায় ৮৪ শতাংশ কমে গেছে।
জ্বালানিনীতি গবেষক ও পরামর্শক মার্ক আয়ুব বলেন, ‘ইরান কৌশলগতভাবে অবশিষ্ট সংরক্ষণ-ক্ষমতা ব্যবহার করছে। তথ্য বলছে, অবরোধ কার্যকর হচ্ছে, কিন্তু প্রকৃত চাপ তৈরি হবে তখনই, যখন এই সংরক্ষণ সক্ষমতা ফুরিয়ে আসবে।’
এই মজুতের বড় অংশই সমুদ্রে ভাসমান ট্যাংকারে রাখা হচ্ছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট ভাসমান মজুত হিসেবে সংরক্ষিত আছে।

















