সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, তা আরও বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত না হলে পূরণ করা যায় না। বাজেটের শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়।
ফাহমিদা খাতুন দুটি উদাহরণ দিয়েছেন। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবছরই উচ্চ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়, কিন্তু তা অর্জন করা সম্ভব হয় না। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব আহরণ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার অনেক কম। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রায় ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে।
রপ্তানির ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ২ দশমিক ০২ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অথচ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয়।
সরকারের ঘাটতি পূরণ প্রসঙ্গে ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরকার যদি ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতে ঋণের সংকট হতে পারে। তিনি মনে করেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে বিদেশি ঋণ নিলে ভালো। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানো হয়েছে।
ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, এমন সময় বাজেট দেওয়া হয়েছে, যখন সমস্যা কেবল প্রবৃদ্ধি নয়; বরং স্থিতিশীলতা, আস্থা ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। বাজেটে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তুলনায় তা অনেকটাই বেশি।
মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করতে হবে বলে মত দেন ফাহমিদা খাতুন। সেই সঙ্গে মুদ্রানীতিতে প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।
রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে জোর দেন ফাহমিদা খাতুন। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বড় চ্যালেঞ্জ। দাম এই অবস্থায় থাকলে আর শর্ত পূরণ করা গেলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু বিষয়ের প্রশংসা করেন ফাহমিদা খাতুন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সৌর প্যানেল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে যে করছাড় দেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক। সেই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখযোগ্য।






























