মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রাষ্ট্রমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আজ বাঘ সহ বিশ্বজীবন সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য মানসিক উন্নয়নের দরকার তুলে ধরেছেন তিনি। মিরপুরে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ দ্বারা আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস-২০২৬ উদযাপনের আয়োজনে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলে এই মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রমন্ত্রী।
“বাঘ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী এবং জৈববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ”, বলেছেন রাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন যে প্রায় ১০০ বছর আগে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা প্রায় ১০০,০০০ ছিল যা এখন কমে গেছে প্রায় ৫,০০০-এ। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী প্রজাতিগুলো এখন গুরুতর হুমকির সম্মুখীন।
টুকু উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, যদি আমরা তাত্ক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ না নেই তাহলে ভবিষ্যতে এই বিশেষ প্রজাতির অস্তিত্ব গুরুতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। দেশের একমাত্র ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে মাত্র ১২৪ টি বাঘ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আরও বলেছেন যে, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় ১৫ টি এবং দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় আরও ৫০ টি বাঘ রয়েছে।
রাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, বাঘ আমাদের জাতীয় সম্পত্তি, তাই সরকার এই বিপন্ন বন্যপ্রাণীটিকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম বাঘ সম্পর্কে জানতে পারে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব বুঝতে পারে।
বাঘের আদমশুমারি ও তার স্বচ্ছতার বিষয়ে রাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, বাঘের আদমশুমারি বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। তিনি বলেছেন যে, বন বিভাগ তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই কর্মসূচি পরিচালনা করছে। পরে রাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাঙ্গনে স্মারক দোকান উদ্বোধন করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব এম দেলোয়ার হোসেন, পশু পরিষেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম শাহজামান খান, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডাঃ এম শাহীনুর আলম, চিড়িয়াখানার নিরীক্ষক ডাঃ এম হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রাণী কল্যাণ সংস্থার সমন্বয়ক আদনান আজাদ এবং মন্ত্রণালয় ও চিড়িয়াখানার আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।






























