গাইবান্ধা জেলায় অবিরাম বৃষ্টি ও উপরিভাগের জলপ্রবাহের কারণে ১৩২ হেক্টর আমন ধানের বাঁধ ডুবে গেছে। ফলে কৃষকরা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এই মৌসুমে আমন ধান চাষের জন্য ১৩৩,১২০ হেক্টর জমি চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৭,০২৫ হেক্টর জমিতে বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। তবে গত সপ্তাহের অবিরাম বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় ব্যাপকভাবে পানি জমে গেছে, যার ফলে ব্যাপক পরিমাণে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের মধ্যে ৩৩.৫ হেক্টর সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় প্রায় ৩১০ হেক্টর শাকসবজির জমিও পানিতে ডুবে গেছে। গাইবান্ধা জেলা সাতটি উপজেলা, ৮১টি ইউনিয়ন এবং চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত, যেখানে নদী ভিত্তিক ভূগোলের কারণে বন্যার ঝুঁকি বেশি। জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১৭৫টি চর অবস্থিত, যেখানে বৃষ্টির জল দ্রুত জমে যায়।
জেলার বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শনে দেখা গেছে যে, অনেক বাঁধ চারার প্রস্তুত হওয়ার আগেই পানিতে ডুবে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে, চারার মূল ও অঙ্কুর দুটিই নষ্ট হতে শুরু করেছে, যার ফলে কৃষকদের অতিরিক্ত খরচে নতুন বাঁধ প্রস্তুত করতে হচ্ছে। গবিন্দগঞ্জ উপজেলার নকাই ইউনিয়নের শিতল গ্রামের কৃষক সাজু মিয়া বলেছেন, ‘আমি আমন চাষের জন্য ১০ বিঘা জমিতে বাঁধ প্রস্তুত করেছিলাম, কিন্তু ১০-১২ দিন বয়সী চারাগুলো এক সপ্তাহ পানিতে থাকার পর নষ্ট হয়ে গেছে।’
পালাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল সোবহান মিয়া বলেছেন, ২০-২২ দিন বয়সী চারাগুলো এক সপ্তাহ পানিতে থাকার পর গুটিয়ে যাওয়ায় তাদের বুনো হয়ে গেছে। গোপীনাথপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেছেন, তার ১৫ দিন আগে প্রস্তুত করা বাঁধ এখন পানিতে ডুবে গেছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আজম আলী বলেছেন, বৃষ্টির কারণে অনেক চারা ধ্বংসের মুখে পড়েছে, যার ফলে চাষের খরচ বেড়েছে এবং আমন চাষ কয়েক সপ্তাহ বিলম্ব হতে পারে।
কৃষি অধিদপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর আতিকুল ইসলাম বলেছেন, নিম্নভূমির অঞ্চলগুলোতে অবিরাম বৃষ্টির কারণে অনেক বাঁধ এখনও পানিতে ডুবে রয়েছে। ‘পানি অপসারণের পর যথাযথ যত্ন নিলে ক্ষতি কমানো যায়। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কৃষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।’






























