গুগল ম্যাপস মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে 'লেক আমেরিকা' রাখেছে। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর এই পরিবর্তনটি করা হয়েছে। কানাডার এক কর্মকর্তা এই পরিবর্তনটিকে 'সম্পূর্ণ অযৌক্তিক' বলে বর্ণনা করেছেন। কানাডার ব্যবহারকারীরা এখনও লেক অন্টারিও নামেই দেখতে পাচ্ছেন।
গুগল ম্যাপস বলেছে যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম (জিএনআইএস) অনুসারে তাদের ম্যাপ হালনাগাদ করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল ভৌগোলিক নামের ডাটাবেস। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহারকারীরা 'লেক আমেরিকা' দেখতে পাবেন, কানাডায় 'লেক অন্টারিও' এবং অন্যান্য দেশের ব্যবহারকারীরা উভয় নাম দেখতে পাবেন।
এই পরিবর্তনটি ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির একটি অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ট্রাম্প কানাডার অটোমোবাইল শিল্পের বিরুদ্ধে নতুন সমালোচনা উত্থাপন করেছেন।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে বলেছেন, 'আমি কানাডিয়ান গাড়ি, কানাডিয়ান পার্টস, কানাডিয়ান কিছুই চাই না।' অন্যদিকে, অ্যাপল তাদের ম্যাপস অ্যাপে এখনও লেক অন্টারিও নামটি বজায় রেখেছে।
অন্টারিও প্রদেশের প্রধানমন্ত্রী ডগ ফোর্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এবং বাণিজ্য বিবাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, 'এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। যখন তিনি নাম পরিবর্তনের নথিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন তখন মনে হয়েছিল যেন কোনো কৌতুক অনুষ্ঠান। কেউ এটিকে লেক অফ আমেরিকা বলবে না।'
ফোর্ড এই বিবাদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কেও সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'বাণিজ্য বিবাদ উভয় দেশের ক্ষতি করবে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি অধিক হবে কারণ কানাডা মার্কিন যানবাহনের বৃহত্তম ক্রেতা। যদি কানাডার ক্রয় কমে যায় তাহলে মার্কিন যানবাহন কারখানাগুলো কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে।'
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এবং বাণিজ্য বিবাদের প্রভাব কীভাবে হবে তা দেখতে হবে, তবে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে।






































