ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল এবং স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কাছাকাছি অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত বন-আগুনে ২৬৭,০০০ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফ্রান্সে বোর্দোর চারপাশের এলাকা থেকে ১৯৭,০০০ লোককে অপসারণ করা হয়েছে, যা দেশের সম্ভবত শান্তিকালীন সময়ের বৃহত্তম উদ্ধার অভিযান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্পেনে মাদ্রিদের পশ্চিমে অবস্থিত গ্রামগুলো থেকে ৭০,০০০ লোককে নিরাপত্তায় নিয়ে আসা হয়েছে।
বন-আগুনের কারণে মাদ্রিদের আকাশে বাদামী-ধূসর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে এবং শহরের উত্তর অংশের ছাদগুলো কালো ছাইয়ে আবৃত হয়েছে। বাসিন্দারা গলায় বিরক্তিকর ধোঁয়ার গন্ধ থেকে বাঁচতে জানালা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানান, বোর্দোর অবস্থানকারী জিরোঁদ অঞ্চলে বন-আগুনের তীব্রতা কমেছে এবং এটি আর উত্তাল ধরনের আগুন নয়। স্পেনের সরকারি প্রতিনিধি ফ্রান্সিসকো মার্টিন বলেছেন, তাপমাত্রার কমে যাওয়া এই আগুনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করেছে।
বন-আগুনের কারণে ফ্রান্সে প্রায় ৯৮,০০০ হেক্টর এলাকা ধ্বংস হয়েছে, যা একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে মাত্র ৩২,০০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে, যা প্যারিসের আয়তনের তিন গুণ। স্পেনে মাদ্রিদের পশ্চিমে ২৫,০০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।
ফ্রান্স ও স্পেন উভয় দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে অগ্নিনির্বাপণের বিমান সহায়তা পাচ্ছে। ফ্রান্স বোর্দোর কাছাকাছি অঞ্চলে ১,০০০ সেনা মোতায়েন করেছে এবং একটি A400M সামরিক পরিবহন বিমান নিয়োগ করা হয়েছে যা ২০ টন আগুন নির্বাপণকারী পদার্থ ছোঁড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা শুষ্কতা বৃদ্ধি করে এবং আবহাওয়া সংকট আরও তীব্র এবং ঘন ঘন হয়ে উঠছে। ইউরোপ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে।





























