হজরত আইয়ুব (আ.)–এর শরীরে পোকা পড়ার কাহিনি অপ্রমাণিত বলে বিবেচিত হয়। কোরআনে এ বর্ণনার কোনো উল্লেখ নেই। হাদিসবিশারদদের মতে, এ বর্ণনার উৎস মূলত ‘ইসরায়েলি রেওয়ায়েত’। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, নবীগণ আল্লাহর নির্বাচিত, সম্মানিত ও পবিত্র বান্দা। তাঁদের সম্পর্কে এমন কোনো বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়, যা তাঁদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে বা মানুষের মনে তাঁদের প্রতি বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করে।
কোরআনের কথা
পবিত্র কোরআনে হজরত আইয়ুব (আ.)–এর পরীক্ষার কথা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু মর্যাদাপূর্ণ ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আইয়ুবের কথা স্মরণ করুন, যখন তিনি তাঁর প্রতিপালককে ডেকে বলেছিলেন, “আমি দুঃখ–কষ্টে পতিত হয়েছি, আর আপনি তো হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।”’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৩) কোরআনের কোথাও তাঁর শরীরে পোকা পড়া, দেহ পচে যাওয়া বা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার কোনো উল্লেখ নেই।
শিক্ষা
হজরত আইয়ুব (আ.)–এর জীবনের মূল শিক্ষা তাঁর রোগের ভয়াবহতায় নয়; বরং তাঁর অসীম ধৈর্য, বিনয় ও আল্লাহর প্রতি অটল আস্থায় নিহিত। বিপদের সময় আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া, কঠিন মুহূর্তেও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং ধৈর্য ও সবরের মাধ্যমে পরীক্ষাকে মোকাবিলা করা।






























