দীপাবলি হল অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর উৎসব, যা অশুভ শক্তি দূরীকরণ ও জ্ঞানের আলোর পথ খোঁজার প্রতীক। বিজয়া দশমীর পর কার্তিক মাসের অমাবস্যার দিনে এই উৎসব পালিত হয়।
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, আশ্বিন মাসের নরক চতুর্দশীর দিন ভগবান বিষ্ণু প্রবল পরাক্রমশালী নরাসুরকে বধ করেছিলেন। তাঁর বধের মধ্য দিয়েই বসুন্ধরার সৃষ্টি। তাই এই বসুন্ধরার জন্মের তিথি উপলক্ষে গৃহস্থরা নিজ নিজ ঘরদোর সব পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করে রাখে। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন করে নতুনের আহ্বান জানানো হয়।
বাঙালি সনাতন ধর্মাবম্বলীরা আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে কালীপূজা উদ্যাপন করেন। কালীপূজা মূলত অশুভ শক্তিকে বিতাড়িত করে শুভ শক্তির সাধনা। শুধু আলো জ্বালিয়েই উৎসবের উদ্যাপন শেষ হয় না। আকাশে-বাতাসে আতশবাজি পোড়ানোর ধুমও দেখা যায়। অশুভ শক্তি বিতাড়নের এটাও এক প্রাচীন আচার।
দীপাবলি বা দিওয়ালি উৎসবে আরেকটি বিষয় সনাতনীদের মধ্যে লক্ষ করা যায়, সেটির নাম ধনতেরাস। ধনত্রয়োদশী তিথি থেকে ধনতেরাস শব্দের উৎপত্তি। নতুন জামাকাপড় কেনা, গৃহস্থ পরিবারের প্রয়োজনীয় বাসনপত্র ও আসবাব কেনা এবং সম্পদ হিসেবে সোনা–রুপাও ক্রয় করে গৃহস্থ পরিবারগুলো।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি গানের পঙ্ক্তি স্মরণ করা যেতে পারে—‘যাক অবসাদ বিষাদ কালো, দীপালিকায় জ্বালাও আলো—/ জ্বালাও আলো, আপন আলো, শুনাও আলোর জয়বাণীরে’। কিংবা ‘দীপালিকায় জ্বালাও আলো,/ জ্বালাও আলো, আপন আলো, জয় করো এই তামসীরে।’




















