বৌদ্ধরা আজ মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধের পরমায়ু বিসর্জন দিবস পালন করছেন। মাঘ মাসের পূর্ণিমা বলে এই পূর্ণিমা মাঘী পূর্ণিমা বলা হয়ে থাকে। ৫ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমা উদ্যাপিত হবে। শুভ মাঘী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম একটি তাত্পর্যময় পূর্ণিমা তিথি।
মাঘী পূর্ণিমা তিথিকেও কেন্দ্র করে বুদ্ধের জীবদ্দশার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এই পূর্ণিমার দিনেই বর্তমান ভারতের উত্তর প্রদেশের বৈশালীর চাপাল চৈত্যে বুদ্ধ নিজেই তাঁর মহাপরিনির্বাণ লাভের দিনক্ষণ ঘোষণা দেন। যাকে বৌদ্ধ পরিভাষায় বলা হয় আয়ু সংস্কার।
বৌদ্ধরা পুণ্যময় এই দিনকে অষ্টশীল পালন, বুদ্ধপূজা দান, সংঘদান, বিহারে ধর্মীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোকসজ্জা, হাজার প্রদীপ প্রজ্বালন, দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত উপাসনাসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করে থাকেন।
এই দিনে বুদ্ধ নিজের মহাপরিনির্বাণ লাভের দিন ঘোষণার পাশাপাশি আরও একটি ঘটনা হলো মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধ ভিক্ষুসংঘকে প্রাতিমোক্ষ উদ্দেশ উপদেশ দিয়েছিলেন। ‘প্রাতিমোক্ষ’ হলো বৌদ্ধভিক্ষুদের নিত্যপ্রতিপালনীয় বিনয়-বিধানসংবলিত একটি গ্রন্থ।
মাঘী পূর্ণিমা দিনে বুদ্ধ নিজের আয়ু বিসর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পেছনেও কারণ আছে। বৌদ্ধধর্মে মারের (অপশক্তি) কথা উল্লেখ আছে। মার সব সময় বুদ্ধ শাসনের বিরুদ্ধে থাকে। কারণ, জগতে বুদ্ধ আবির্ভূত হলে মারেরা তেমন সুবিধা করতে পারে না।
বস্তুত মাঘী পূর্ণিমা দিবসটি বৌদ্ধদের কাছে খুব একটা আনন্দের দিন নয়। এটা বুদ্ধকে হারানোর একটি দিন। কারণ, বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে মহাপরিনির্বাণ লাভ করলেও এর সূচনাটা হয়েছিল মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে।






























