ময়মনসিংহের মনসাপাড়ায় পাহাড়ি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতিতে বড়দিন উদ্যাপনের অভিজ্ঞতা অন্যতম বিশেষ। সেখানে স্থানীয় কমিউনিটি বেজড বড়দিন উদ্যাপনের রীতি। একেক বছর একেক বাড়ির কর্তা বড়দিনের দায়িত্ব নেন; বাদবাকি সবাই তাঁর অতিথি। যে বাড়িতে উৎসবের দিনের ভোজ হবে, সেখানে মোটাসোটা একটি শূকর বেঁধে রাখা হয়েছে। অতিথি আপ্যায়নের জন্য ক্রিসমাসের দিন সেটিকে মারা হবে।
আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই গানবাজনা আর নাচ চলছে। গানগুলো সবই মানদাই ভাষার। একটি বর্ণও বুঝলাম না। কিন্তু জানলাম, এগুলো সব যিশুর মহিমাকীর্তন। গানের সঙ্গে নাচ, সেটাতেও অংশ নিচ্ছেন ছেলে-বুড়ো সবাই।
পরদিন সকালে গেলাম গির্জায়। সেখানে পাদরি কথা বলছিলেন বাংলায়ই। বললেন, পৃথিবীতে ডিসেম্বর মাসে দিন থাকে ছোট, তবু কেন ক্রিসমাসকে বড়দিন বলা হয়...। ভৌগোলিক হিসাবেও এই সময় থেকে দিন বড় হতে শুরু করে আর রাত হয় ছোট। যিশুর জন্মের মাধ্যমে পৃথিবীতে সুদিন আসার প্রতীক তাঁর এই জন্মদিন।
পাহাড়ের বড়দিন উদ্যাপন বেশি ভালো লাগার কারণ, সেটি একেবারেই তাঁদের নিজস্ব কায়দায় উদ্যাপন করা উৎসব। কোনো রকম ইউরোপিয়ান রিচুয়াল চোখে পড়ল না। আলো দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো কিংবা লাল পোশাকের ভুঁড়িওয়ালা নকল দাড়ি ও পরচুলা পরা সান্তা ক্লজ কোথাও ছিল না।
আরেকবার ক্রিসমাস ইভে আমি ছিলাম কলকাতায়। সেখানে বড়দিন পুরোটাই ইউরোপীয় রীতিতে উদ্যাপিত হয়। পার্ক স্ট্রিটে গিয়ে দেখি, দুনিয়ার মানুষ গিজগিজ করছে। সবাই কোথায় যেন যাচ্ছে। পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যেমন অবস্থা হয়, অনেকটা তেমন। কলকাতা আদতেই একটি কসমোপলিটন সিটি। সেখানে নানা ভাষার মানুষের বাস, কিন্তু বড়দিন যাঁরা উদ্যাপন করছেন, তাঁদের অধিকাংশই খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী নন।
আমার দেখা বড়দিনের এ দুই উদ্যাপনে বিশাল ফারাক। প্রথমটি খুব সাদামাটা আন্তরিক আর একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিজস্ব রীতিতে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনের আয়োজন। আর পরেরটি খুব জাঁকজমকপূর্ণ, ঝাঁ-চকচকে শহরের আলোকোজ্জ্বল। অনেকটা যেন গ্লোবাল উৎসব।






























