প্রোস্টেট ছোট সুপারির মতো একটি গ্রন্থি, যা পুরুষের মূত্রথলির ঠিক নিচে থাকে। ৫০ বছরের পর থেকে প্রস্টেট গ্রন্থি দ্রুত বড় হতে শুরু করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় বিনাইন এনলার্জমেন্ট অব প্রোস্টেট (বিইপি)। এই গ্রন্থি বড় হতে থাকলে অনেকেরই প্রস্রাবের সমস্যা সৃষ্টি করে।
মূত্রনালিটি যেহেতু প্রোস্টেট গ্রন্থির ভেতর দিয়ে গেছে, তাই এটি বড় হলে প্রস্রাবের নানা সমস্যা হতে পারে। যেমন— বারবার প্রস্রাব হওয়া, অনেক সময় টয়লেটে যাওয়ার আগেই প্রস্রাব হয়ে যাওয়া, প্রস্রাব শেষের দিকে ফোঁটায় ফোঁটায় পড়তে থাকা, প্রস্রাব করার পর মনে হয় প্রস্রাব থলিতে খানিকটা থেকে যাচ্ছে।
এ সমস্যা বাড়তে বাড়তে একসময় প্রস্রাব হঠাৎ সম্পূর্ণ আটকে বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যাকে বলে অ্যাকিউট রিটেনশন। দীর্ঘদিন প্রস্রাব মূত্রথলিতে জমে থাকতে থাকতে কিডনি ফুলে গিয়ে হাইড্রোনেফ্রোসিস এবং এ থেকে কিডনি ফেইলিওর হতে পারে।
রোগের শুরুতেই সঠিক চিকিত্সা নিলে এসব জটিলতা পরিহার করা যায়। প্রোস্টেট ক্যানসার হলেও একই ধরনের লক্ষণ থাকতে পারে, মেরুদণ্ডের হাড়ে ব্যথা ক্যানসারের আরেকটি লক্ষণ।
চিকিৎসা পদ্ধতি
প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে গেলেই যে ওষুধের মাধ্যমে চিকিত্সা দিতে হবে, তা নয়। চিকিত্সা মূলত নির্ভর করে রোগের লক্ষণ কত প্রকট, তার ওপর। যদি লক্ষণ স্কোর কম হয়, প্রস্রাবের সর্বোচ্চ গতি সেকেন্ডে ১৫ মিলিলিটারের বেশি হয় এবং মূত্রথলিতে ৫০ মিলিগ্রামের কম প্রস্রাব জমা থাকে, তাহলে ওষুধের প্রয়োজন নেই।
এ ক্ষেত্রে চা-কফি ও পানি হিসাব করে খাওয়ার উপদেশ দেওয়া হয়। আজকাল প্রায় ৯০ শতাংশ বিইপি রোগীকে ওষুধের সাহায্যেই চিকিত্সা দেওয়া যায়। ওষুধে কাজ না হলে কিছু ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থির অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়।
অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলে এখন আর পেট কাটার দরকার পড়ে না। প্রস্রাবের পথে মেশিনের সাহায্যে ইলেকট্রিক লুপ বা লেজারে প্রোস্টেট গ্রন্থির মাংসগুলো ছোট টুকরা করে কেটে বের করা হয়। এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই সফল হয়।
প্রতিরোধ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন
বিইপি ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধের কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। তবে জীবনযাত্রার ধরন ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের ওজন ঠিক রাখতে হবে।



















