হোয়েট রিচার্ডস দিনে ছিলেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পুরুষ মডেল, রাতে ঘুমাতেন একটি রহস্যময় সংগঠনের অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে বিছানো পাতলা ম্যাটের ওপর। প্রায় দুই দশক ধরে এমনই দ্বৈত জীবন কাটিয়েছেন তিনি। যিনি একসময় ভার্সাচে, ভ্যালেন্তিনো ও রালফ লরেনের মতো ব্র্যান্ডের মুখ ছিলেন, তিনি নিজের অজান্তেই জড়িয়ে পড়েছিলেন ইন্টারনাল ভ্যালুজ নামের এক রহস্যময় সংগঠনের সঙ্গে।
কীভাবে শুরু হয়েছিল দ্বৈত জীবন?
১৯৭৮ সালের গ্রীষ্মে ম্যাসাচুসেটসের ন্যানটাকেট দ্বীপে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়ে ১৬ বছর বয়সী হোয়েট রিচার্ডসের প্রথম দেখা হয় ফ্রেডেরিক ভন মিয়েরার্সের সঙ্গে। বয়সে বড়, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী মিয়েরার্স কিশোর হোয়েটকে তাঁর স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পেরে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন।
কী ছিল ইন্টারনাল ভ্যালুজ?
ইটারনাল ভ্যালুজ নামের সংগঠনটি ফ্রেডেরিক ভন মিয়েরার্স গড়ে তোলেন। তিনি মডেল, তরুণ পেশাজীবী ও নিউইয়র্কের উচ্চবিত্ত সমাজের সদস্যদের আকৃষ্ট করতেন। তিনি দাবি করতেন, তিনি পৃথিবীর মানুষ নন; মহাবিশ্বের দূরবর্তী নক্ষত্র আর্কটারাস থেকে আগত এক ভিনগ্রহের দূত।
কীভাবে চলতো সংগঠনটি?
সংগঠনটির শুরুটা ছিল স্বাস্থ্যচর্চা ও আত্মোন্নয়নের আন্দোলন বলে মনে হয়েছিল। সদস্যদের ফল ও সবজিভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে হতো, নিয়মিত রোদে বসতে হতো, মাদক ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকতে বলা হতো। কিন্তু সেই নিয়মের আড়ালেই ছিল নিয়ন্ত্রণের জাল।
কীভাবে শেষ হয়েছিল দ্বৈত জীবন?
১৯৯০ সালে ভ্যানিটি ফেয়ার প্রকাশ করে বিখ্যাত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘দ্য ফোর্ড মডেলস অ্যান্ড দ্য এলিয়ানস ফ্রম আর্কটারাস।’ প্রতিবেদনটি প্রকাশের মাত্র পাঁচ দিন আগে এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ভন মিয়েরার্স। মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে তাঁর প্রকৃত পরিচয়।






























