১৯৯২ সালের ১৫ জুলাই দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের উইম্বলডন কমনে ঘটে যাওয়া র্যাচেল নিকেলের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি নেটফ্লিক্স নির্মাণ করেছে ক্রাইম ড্রামা সিরিজ ‘দ্য উইটনেস’ ও প্রামাণ্যচিত্র ‘দ্য মার্ডার অব র্যাচেল নিকেল’। চলতি বছরের শেষ দিকে প্রাইম ভিডিও মুক্তি দেবে ‘দ্য উইম্বলডন কিলার’ নামের আরেকটি তথ্যচিত্র সিরিজ।
২৩ বছর বয়সী মডেল ও তরুণী মা র্যাচেল নিকেল তাঁর দুই বছরের ছেলে অ্যালেক্স এবং পোষা কুকুর মলিকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন উইম্বলডন কমনে। হঠাৎ ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে এক অপরিচিত ব্যক্তি। দিবালোকে, জনসমাগমের কাছাকাছি এলাকায়, কোনো সতর্কতা ছাড়াই র্যাচেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। এরপর তাঁকে যৌন নির্যাতন করা হয় এবং ৪৯ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। পুরো ঘটনাটি ঘটে অ্যালেক্সের চোখের সামনে।
অ্যালেক্স দাবি করেন, তিনি হত্যাকারীকে কাছের ঝরনায় হাতের রক্ত ধুয়ে ফেলতেও দেখেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পরও অ্যালেক্স বুঝতে পারেনি যে তাঁর মা মারা গেছেন। চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে ছিল। নিস্তব্ধ পরিবেশে সে মাকে জাগানোর চেষ্টা করতে থাকে।
পরে জানা যায়, পুলিশ তথাকথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ পদ্ধতি ব্যবহার করে তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেছিল। ভুল অভিযোগের কারণে স্ট্যাগকে ৭ লাখ ৬ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। ২০০২ সালে উন্নত ডিএনএ প্রযুক্তির সাহায্যে তদন্তকারীরা র্যাচেলের শরীর থেকে সংগ্রহ করা নমুনা আবার পরীক্ষা করেন। তখন মিলে যায় এক ভয়ংকর অপরাধীর ডিএনএর সঙ্গে। সে ছিল রবার্ট ন্যাপার—এক সিরিয়াল ধর্ষক ও খুনি, যিনি এর আগেই একাধিক নারীকে আক্রমণের দায়ে ব্রডমুর মানসিক হাসপাতালে আটক ছিলেন। পরে ন্যাপার নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করেন।
২০০৮ সালে তাঁকে র্যাচেল নিকেলের হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, খুনি ধরা পড়ার আগেই অ্যালেক্স তাঁর মায়ের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে অ্যালেক্স একজন যোগশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন।



















