বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হাজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মালামাল জ্যাম দূর করতে ছুটির দিনে কাস্টমস পরিষেবা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বিমানবন্দরের বাইরে একটি আলাদা মালামাল গ্রাম স্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন।
মন্ত্রী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে বিমানবন্দরের মালামাল পরিচালনা সংকট এবং সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরে মালামালের পরিমাণ কমছে না কারণ শুক্রবার ও শনিবার অপারেশন সীমিত থাকে। তিনি বলেন, স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা পর্যন্ত ছুটির দিনে কাস্টমস ও অন্যান্য সম্পর্কিত পরিষেবা চালু থাকা উচিত।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিমানবন্দর মালামালের জন্য একটি ট্রানজিট পয়েন্ট, স্টোরেজ নয়। তবে, বিমানবন্দরে মালামালের দীর্ঘ অবস্থান গুরুতর জ্যাম সৃষ্টি করেছে, যা বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কার্যকলাপকে প্রভাবিত করছে।
মালামাল জ্যাম দূর করতে বিমানবন্দরের বাইরে একটি আধুনিক ও নিরাপদ মালামাল গ্রাম স্থাপনের গুরুত্ব তিনি জানান। তিনি বলেন, আগামী দশকের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে। বিপজ্জনক ও অবিপজ্জনক মালামাল, দ্রুতগামী ও ধীরগামী পণ্যের জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত।
বৈঠকে জানানো হয় যে দৈনিক প্রায় একই পরিমাণ মালামাল আসছে এবং পরিষ্কার করা হচ্ছে, তবে আগে থেকে জমা হওয়া বড় ব্যাকলগ বেশি পরিবর্তন হচ্ছে না। ছুটির দিনে সীমিত অপারেশনকে ব্যাকলগ কমানোর ধীর গতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সমস্যা সমাধানে সকল পক্ষ ই ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে, তাই স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান উভয়ই অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরে মালামাল পরিষ্কারের অভিজ্ঞতা বিদেশী ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রথম ধারণা গঠন করে, এবং এই অভিজ্ঞতা নেতিবাচক হওয়া উচিত নয়।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, মালামাল জ্যাম শুধুমাত্র ব্যবসায়ের ক্ষতি করছে না, বরং বাংলাদেশের বিদেশে চিত্রকেও প্রভাবিত করছে। তিনি সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান প্রগতির জন্য আহ্বান জানান এবং সমস্যাটি নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে বলে সতর্ক করেন।
বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়িক সংস্থা, মালামাল পরিচালক ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।






























