গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া জ্যাকফ্রুট দিয়ে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু বিস্কুট তৈরি করে বাজারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন। জ্যাকফ্রুট হল বাংলাদেশের জাতীয় ফল এবং এটি ভৌগোলিক স্বীকৃতি (জিআই)-প্রাপ্ত পণ্য। তা সত্ত্বেও, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ফল বাগানে ও গাছে নষ্ট হয়ে যায়। এই মৌসুমী ক্ষতিকে অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে ভূঁইয়া এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
বিস্কুটগুলো কৃত্রিম স্বাদ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ তাজা, প্রাকৃতিক জ্যাকফ্রুট মাংস রয়েছে। গাজীপুর কৃষি বর্ধন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রতি বছর ১০,০০০ হেক্টর জমিতে জ্যাকফ্রুট চাষ করা হয়, যার মধ্যে শ্রীপুরে প্রায় ৩,৫০০ হেক্টর জমি রয়েছে। বাইশাখ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত দীর্ঘ জ্যাকফ্রুট মৌসুমে বাজারে বিপুল পরিমাণ ফল আসে, কিন্তু সীমিত সংরক্ষণ সুবিধার কারণে দাম প্রায়শই তীব্রভাবে কমে যায়, যার ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
বিস্কুটগুলো অফলাইন এবং অনলাইন উভয় মাধ্যমেই ব্যবহারকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ তৈরি করেছে। স্থানীয় কুরিয়ার কর্মী রাকিব বলেছেন, গত কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক অনলাইন অর্ডার দেশের বিভিন্ন অংশে পাঠানো হচ্ছে। অনেক গ্রাহক প্রথমবার চেষ্টা করার পর পুনরায় অর্ডার দিচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকরাও এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন আশা পেয়েছেন। অভিজ্ঞ কৃষক আবু বক্কর বলেছেন, প্রতি বছর অসংখ্য টাকার মূল্যের জ্যাকফ্রুট অপর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার কারণে বাগানে নষ্ট হয়ে যেত। প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে নতুন বাজার সৃষ্টি হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পেতে পারবে।





























