রাজশাহী, ০৯ আগস্ট, ২০২৬ — স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর রাজশাহীর গোদাগড়ি উপজেলার ঐতিহাসিক পদ্মা নদীর তীরবর্তী চর আশরাফিদাহে বিদ্যুৎ আসবে। প্রায় ৬০,০০০ মানুষের জীবনে এই বিদ্যুৎ আগমনে নতুন আলোর বাতাস বাঁধাবে।
শনিবার চর আশরাফিদাহ ইউনিয়নের কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এক নাগরিক সমাবেশে উত্তর বাংলা বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানীর (নেস্কো) বোর্ড চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) শরীফ উদ্দীন ঘোষণা করেন যে খুব শীঘ্রই অঞ্চলটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপিত হবে।
নেস্কো চেয়ারম্যানের ঘোষণায় উৎসাহিত চরবাসী
সমাবেশে যোগদানের আগে নেস্কো চেয়ারম্যান জল উন্নয়ন বোর্ডের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে চর আশরাফিদাহের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি চরবাসীর মতামত নেন কিভাবে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা যাবে। পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন অঞ্চল পরিদর্শন করে তিনি নদী ভাঙন রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মেজর জেনারেল (অবঃ) শরীফ উদ্দীন বলেন, এই প্রযুক্তির যুগে এত বড় এক জনগোষ্ঠী বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। চরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে নেস্কো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
চরবাসীর আশা ও আকাঙ্ক্ষা
স্থানীয়দের মতে, মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে শহরে বিদ্যুতের আলো জ্বললেও চরের মানুষকে এখন পর্যন্ত অন্ধকারে কাটাতে হয়েছে। তারা দিনের বেলায় সমস্ত কাজ করে ফেলত। ২০১৫ সালে এক বেসরকারি সংস্থা সীমিত পরিসরে সৌর শক্তি ব্যবস্থা করেছিল কিন্তু ক্ষতির কারণে ২০২৪ সালের জুনে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
ফলে এলাকার শিক্ষার্থী, গৃহিনী এবং রোগীরা অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। নেস্কো চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগ এবং মাঠ পরিদর্শন চরবাসীর মধ্যে নতুন আশা জাগিয়ে তুলেছে।
চরবাসী আশা করছেন যে বিদ্যুতের আগমনে চর অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতি, যোগাযোগ ও শিক্ষা খাতে নতুন পরিবর্তনের দ্বার খুলবে এবং কর্তৃপক্ষ অন্যান্য বৈষম্য দূর করতে দ্রুত মনোযোগ দেবে।






























