রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ৫ বছরের শিশু মো. ইব্রাহিম খলিল ২৮ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটি নিজেদের ভবনে প্রবেশ করেছে কিন্তু বের হয়ে যাওয়ার কোনো ফুটেজ নেই। শিশুটির বাবা মো. জসিমের প্রশ্ন, ‘আমার ছেলে কি বাড়িতে ঢুকে হাওয়া হয়ে গেল?’
শিশুটি যে স্যান্ডেল জোড়া পরে বাসা থেকে বের হয়েছিল, তা পড়ে ছিল ভবনটির মূল ফটকের ভেতরের অংশে। পুলিশ এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো ‘ক্লু’ খুঁজে পায়নি। শিশুটির মা-বাবার সন্দেহ, এই বাড়ির ভেতরের কেউ তাঁদের সন্তানকে অপহরণ করেছে। তাঁদের সন্তান নিখোঁজের ঘটনাটি ‘ভাইরাল’ না হওয়ায় পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না বলে অভিযোগ এই মা-বাবার।
ইব্রাহিমের পরিবার ভবনটির নিচতলার দুটি কক্ষে ভাড়া থাকে। নিচতলার আরেকটি কক্ষসহ দোতলা পর্যন্ত থাকেন ভাড়াটেরা। তিন ও চারতলাসহ ছাদের একটি অংশে বাড়িওয়ালার সন্তানেরা পরিবার নিয়ে থাকেন। ইব্রাহিমের বাবা জসিম বলেন, তাঁর স্ত্রী নাসরিন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গত ১৩ মে ঘটনার দিন তাঁর স্ত্রী শুয়ে ছিলেন। তাঁদের অপর দুই সন্তান মাদ্রাসায় গিয়েছিল।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৭টা ৪১ মিনিটে লাল জামা পরা ইব্রাহিম নিজেদের ভবনের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকে। তার পেছনে পেছনে ঢোকেন বাড়িওয়ালার ছেলে ওমর শরিফ। সেদিন রাত ১১টায় বাসায় আসেন বলে জানান জসিম। তিনি বলেন, বাসায় এসে তিনি জানতে পারেন, ইব্রাহিম তখনো আসেনি। অথচ ভবনের ফটকের ভেতরে তার স্যান্ডেল জোড়া অগোছালো অবস্থায় পড়ে ছিল।
ইব্রাহিমের মা নাসরিন বলেন, বাড়িওয়ালার পরিবারের লোকজনকে তাঁরা সন্দেহ করছেন। কারণ, এই ভবনে একমাত্র বাড়িওয়ালার বাসাতেই যেত ইব্রাহিম। তাঁরা বাড়িওয়ালার বাসায় গিয়ে খোঁজ করেছেন। তখন বাড়িওয়ালার এক সন্তান মারমুখী আচরণ করেন। তাঁর ভগ্নিপতির মাথা ফাটিয়ে দেন। তাঁর ছোট ভাইকে আঘাত করেন।
বাড়িওয়ালার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে তিনতলায় গিয়ে দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়। চারতলার সিঁড়ির কাছে কলাপসিবল গেট। সেখানের কলিংবেল চাপ দিলে বাড়িওয়ালার এক সন্তান বেরিয়ে আসেন। তিনি প্রতিবন্ধী। তিনি জানান, বাড়িতে কেউ নেই। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে বাড়িওয়ালার আরেক সন্তান ওমর শরিফ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ইব্রাহিমকে বাসায় ঢুকতে দেখেছিলেন। এরপর শোনেন, ইব্রাহিমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিবারের অভিযোগ–সন্দেহের বিষয়ে ওমর শরিফ বলেন, ‘ইব্রাহিম আমার সন্তানের বয়সী। ওরা প্রায়ই একসঙ্গে খেলত। ইব্রাহিম বাসায় আসত, খেত। ইব্রাহিমের কোনো ক্ষতি কেন আমরা করব? আমার নিজেরও খারাপ লাগছে। ছেলেটা বাড়িতে ঢোকার পর উধাও হয়ে গেল।’
ইব্রাহিম নিখোঁজের জিডিটি ২ জুন মামলায় রূপান্তর হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি হয়েছে। মামলার বাদী ইব্রাহিমের বাবা জসিম।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহা. মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এখনো বলার মতো অগ্রগতি হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাঁরা তল্লাশি করেছেন। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখছেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে সিসিটিভি ক্যামেরায় দৃশ্য রেকর্ড হবে না। ফলে শিশুটি বাড়ি থেকে বের হয়েছিল কি না বা কেউ বের করে নিয়ে গেছে কি না, সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
ছেলে নিখোঁজের তথ্য নিখোঁজ শিশু উদ্ধার বিষয়ে সর্তকবার্তা প্রচার করা প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্ম ‘মুন অ্যালার্ট’–এ দিয়েছেন বাবা জসিম। মুন অ্যালার্ট–এর প্রধান সমন্বয়কারী সাদাত রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ইব্রাহিমকে খুঁজতে বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুর দরকার। এই কুকুর গন্ধ শুঁকে বলে দিতে পারবে, শিশুটি কোন দিকে গেছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহায়তা করতে পারে।




















