জলসম্পদ মন্ত্রী এমডি শাহিদুদ্দিন চৌধুরী অনি আজ সংসদে জানিয়েছেন যে, ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য সরকার বিকল্প জলসম্পদের ব্যবহার বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, জলচাপ কমে যাওয়া এলাকাগুলো চিহ্নিত করা, অ্যাকুইফার ম্যাপিং এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ জলের সংরক্ষণ, জলের মান এবং নিরাপদ নিষ্কাশনের সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বির বিক্রম-এর উপস্থিতিতে মন্ত্রী জানান, সরকার দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও অন্যান্য জলাশয় খনন ও পুনর্খননের একটি জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, 'এই উদ্যোগগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ জল নিষ্কাশনের উপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।'
জলচাপ কমে যাওয়া এলাকা ঘোষণা
অনি জানান, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল নিষ্কাশন এবং ভূগর্ভস্থ জলের মাত্রা ক্রমাগত হ্রাসের কারণে জাতীয় জলসম্পদ পরিষদের নির্বাহী কমিটি (ইসিএনডব্লিউআরসি) বাংলাদেশ জল আইন, ২০১৩-এর ১৭ ও ১৯ ধারা অনুসারে চাপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ এবং রাজশাহী জেলার ২৫ উপজেলার ২১৫ ইউনিয়নের মধ্যে ১৫৩ টি ইউনিয়নকে জলচাপ কমে যাওয়া এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
ঘোষিত জলচাপ কমে যাওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে ৪৭ টি ইউনিয়ন 'খুব উচ্চ' বিভাগে, ৪০ টি ইউনিয়ন 'উচ্চ' বিভাগে এবং ৬৬ টি ইউনিয়ন 'মধ্যম' বিভাগে রয়েছে।
ভূগর্ভস্থ জল নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ
মন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ভূগর্ভস্থ জল নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পানীয় জলের উদ্দেশ্য ছাড়া নতুন টিউবওয়েল স্থাপন নিষিদ্ধ করা, বিদ্যমান টিউবওয়েলগুলোর ব্যবহার শুধুমাত্র পানীয় জল সরবরাহের জন্য সীমাবদ্ধ করা, পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে ফসল বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে কৃষির জন্য ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার ধীরে ধীরে বন্ধ করা এবং প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য খোলা রাখা।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে এবং দেশের জলসম্পদের টেকসই পরিচালনা নিশ্চিত করবে।






























