গাইবান্ধায় তিস্তা, করতোয়া এবং ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বেড়ে গেছে, যার ফলে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। নদীর পানির উত্থান-পতনের কারণে বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গন ঘটছে, যার ফলে শস্যক্ষেত্র এবং বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে হাজার হাজার মানুষ বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ দিন ধরে নদীর পানির উত্থান-পতন অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। গত দুই দিন ধরে অবিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের কারণে নিম্নভূমি এলাকায় বন্যা হয়েছে, মাটির রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শস্যক্ষেত্র ও বীজশয্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি প্রসার অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ হেক্টর আউস ধান, ৩০ হেক্টর পাট, ২৫ হেক্টর তিল, ৮ হেক্টর আমন বীজশয্যা এবং ১০ হেক্টর শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে।
বাংলাদেশ জল উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) তথ্য অনুযায়ী, বেলা ৩টার মধ্যে তিস্তা নদী কৌনিয়ায় বিপদ সীমার ৪৮ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তেঁতুলমুখে ব্রহ্মপুত্র, গাইবান্ধা শহরে ঘাঘট এবং গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীও বিপদ সীমার নিচে রয়েছে। এই বন্যার মৌসুমে জেলার কোনো নদী বিপদ সীমা অতিক্রম করেনি।
তবে বিডব্লিউডিবি জানিয়েছে, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি এবং সাঘাটা উপজেলায় ২৬টি স্থানে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। শত শত বিঘা শস্যক্ষেত্র এবং অসংখ্য বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, অনেক বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অবকাঠামো বিপন্ন রয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেক পরিবার তাদের বাড়ি এবং জমি হারিয়েছে। তারা সরকারকে অস্থায়ী ত্রাণের পরিবর্তে স্থায়ী নদী সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
গাইবান্ধা ডিএই-এর ডেপুটি ডিরেক্টর মোঃ আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাত এবং বন্যার কারণে শাকসবজি, আউস ধান এবং অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেছেন যে ক্ষতি হ্রাস করতে চাষিরা ক্ষেত্র পর্যায়ে নির্দেশনা পাচ্ছেন।
বিডব্লিউডিবি-এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রণে জরুরি জিও-ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, অসমাপ্ত বাঁধ কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভঙ্গুর এলাকা চিহ্নিত করে স্থায়ী নদী সুরক্ষা প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।





























