খুলনা কৃষি অঞ্চলে চলতি মৌসুমে আমন চাষের জন্য পর্যাপ্ত নীড় তৈরি করার লক্ষ্যে কৃষি অধিদপ্তর ১৬,৪৬৪ হেক্টর জমি নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ১২,৩৪০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল আমন, ১,৫১০ হেক্টরে হাইব্রিড এবং ২,৬১৪ হেক্টরে স্থানীয় আমন নীড় তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চাষিরা শুরু করেছেন নীড় প্রস্তুতি
খুলনা অঞ্চলের চারটি জেলায় চাষিরা ইতিমধ্যে আমন নীড় প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এই কাজ আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা
সরকার এই মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে ২৮৯,৮৫৯ হেক্টর জমিতে ৮৭১,৯৭১ টন পরিষ্কার আমন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ২২০,৪৪২ হেক্টর জমিতে ৬৭০,০৬৪ টন উচ্চ ফলনশীল আমন, ৩০,২১৬ হেক্টরে ১১৫,৬৬১ টন হাইব্রিড আমন এবং ৩৯,২০১ হেক্টরে ৮৬,২৪৬ টন স্থানীয় আমন উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
গত মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে ২৯৮,৬৩৫ হেক্টর জমিতে ৮৭১,৯৪০ টন পরিষ্কার আমন উৎপাদিত হয়েছিল।
উদ্যোগ ও সহায়তা
চাষযোগ্য জমির ধীরে ধীরে হ্রাস স্বত্ত্বেও আমন উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সুষম সার প্রয়োগের প্রচার, উন্নত কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং ক্ষুদ্র ও সীমান্তবর্তী চাষিদের উৎসাহমূলক হিসেবে মানসম্পন্ন বীজ ও সার সরবরাহ।
বন্যায় নীড়ের অভাব না হয়ে যাওয়ার জন্য কৃষি অধিদপ্তর উচ্চ ভূমিতে পরবর্তী আমনের জন্য এবং নিম্নভূমিতে ভাসমান নীড় প্রস্তুত করছে। তদুপরি, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত বা খরা অবস্থার ক্ষেত্রে সময়োপযোগী চারা রোপণের জন্য সারা অঞ্চলে ইরিগেশন পাম্প প্রস্তুত রাখবে।
কৃষি অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এমডি রাফিকুল ইসলাম বলেছেন, 'কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা চাষিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সর্বশেষ প্রযুক্তি সরবরাহ করছে আমন ধানের সফল চাষ নিশ্চিত করতে।'
তিনি আরও বলেছেন, 'উত্সাহী চাষিরা এখন আমন নীড় এবং চাষাবাদি জমি একযোগে প্রস্তুত করছেন, কারণ অঞ্চলজুড়ে অনুকূল আবহাওয়া প্রচলিত রয়েছে।'






























