মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ইরান জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশ করতে দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হওয়ার পর, সোমবার ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল বার্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, 'একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আমরা খুব ভালো ভিত্তি তৈরি করেছি।'
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানকে অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহের সুযোগ দিতে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, হরমুজ প্রণালীতে 'অবাধ ও উন্মুক্ত চলাচল' নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভ্যান্স বলেন, তেহরান আইএইএ পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। তিনি এটিকে 'একটি বড় মাইলফলক' ও ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার 'প্রথম ধাপ' বলে উল্লেখ করেন।
গত নভেম্বরের পর থেকে পরিদর্শকরা ইরান সফর করতে পারেননি। ভ্যান্স বলেন, চুক্তির অংশ হিসেবে এখনো ইরানের কোনো সম্পদ অবমুক্ত করা হয়নি। ভবিষ্যতে তা করা হলে সেই অর্থ সয়াবিনের মতো মার্কিন পণ্য কিনতে ব্যবহার হবে, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের জন্য নয়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর ছাড় দেওয়া হয়েছে, অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে, কিছু জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করা হয়েছে এবং ইরানের জন্য বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।'
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন সফরে যাচ্ছেন। তার মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, সফরে তিনি চুক্তি এবং 'হরমুজ প্রণালীতে পূর্ণ, অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা' নিয়ে আলোচনা করবেন।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি 'রোডম্যাপ'-এ সম্মত হয়েছেন।
দুই দেশ জানায়, 'উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি' হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে 'ঘটনা ও ভুল বোঝাবুঝি' এড়াতে একটি যোগাযোগ চ্যানেলও চালু করা হয়েছে।
সংঘাত শুরুর আগে প্রণালীটিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল অবাধ ছিল। তবে যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান এ জলপথ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।
সোমবারের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রণালীটি দিয়ে এখনো জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। যদিও শনিবার লেবাননে ইসরাইলি হামলার জেরে ইরান আবারও জলপথটি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।





























