চীন সফরের দ্বিতীয় পর্বে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আয়োজিত ভোজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দিয়েছেন। তার সাথে তার প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিল।
এর আগে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে দ্বিপাক্ষিক সভায় অংশ নিয়েছিলেন এবং উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি স্মারক চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
অভ্যর্থনা ও সম্মাননা
তারেক রহমান ডায়োয়ুতাই স্টেট গেস্টহাউস থেকে গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে একটি আনুষ্ঠানিক মোটরকেডে পৌঁছানোর পর তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছিল। চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে অভ্যর্থনা জানান এবং তার হাত ধরে একটি বিশেষভাবে সাজানো প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যান। সেখানে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল তারেক রহমানকে সম্মান প্রদর্শন করে।
অনুষ্ঠানের সময় উভয় দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়েছিল। দুই প্রধানমন্ত্রী গার্ড অফ অনার পরিদর্শন করেন এবং তাদের নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। তারেক রহমানের সম্মানে একটি গান স্যালুটও উপস্থাপন করা হয়েছিল।
ভবিষ্যতের সাক্ষাৎকার ও আলোচনা
তারেক রহমান আগামীকাল (শুক্রবার) স্থানীয় সময় 10:30-এ চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সাথে গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে একটি সাক্ষাৎকার করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন আজ একটি প্রেস কনফারেন্সে জানান যে, দুই সাক্ষাৎকারের সময় তারেক রহমান বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করবেন।
বিনিয়োগ আমন্ত্রণ ও চুক্তি
তারেক রহমান চীনের জলসম্পদ মন্ত্রী লি গুওয়িংয়ের সাথেও সাক্ষাৎ করেছেন। তারা তেস্তা মাস্টার প্ল্যান, নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, নদী খনন, ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ, চাষাবাদ এবং অভ্যন্তরীণ নৌচলাচলের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসারের উপর সম্মতিতে পৌঁছেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডায়োয়ুতাই হোটেলে চীন কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) যৌথভাবে আয়োজিত 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ' অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। চীনের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর 80 জনেরও বেশি নির্বাহী পরিচালক ও মালিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সরকারের নীতিমালা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান উৎপাদনের উদ্যোগগুলো তুলে ধরেছেন। চীনা ব্যবসায়ীরা তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা, প্রত্যাশা এবং প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করেছেন।
দলগত সাক্ষাৎকার ও চুক্তি
তারেক রহমান ডায়োয়ুতাই স্টেট গেস্টহাউসে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সাথে একটি দলগত সাক্ষাৎকার করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের আহ্বান জানান। চীন পক্ষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানুষের মধ্যে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের জন্য চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। উভয় পক্ষ উন্নয়ন, বিনিয়োগ, জনসাধারণের অংশগ্রহণ এবং দলগত সম্পর্কের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও উচ্চতর স্তরে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি স্মারক চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।





























