জাপানে জন্মহার রেকর্ড সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৭১ হাজার ২৩৬টি, যা আগের বছরের চেয়ে ১৫ হাজার কম। ১৮৯৯ সালে জনসংখ্যার রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে এটি সর্বনিম্ন।
২০২৫ সালের আদমশুমারির প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, জাপানের বর্তমান জনসংখ্যা ১২ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ৫২৪ জন। সংখ্যাটি ২০২০ সালের তুলনায় প্রায় ৩১ লাখ কম। ২ দশমিক ৫ শতাংশের এই হ্রাস দেশটির জনসংখ্যার এযাবৎকালের সবচেয়ে দ্রুত পতন।
এই পতনের ফলে বিশ্বের জনবহুল দেশের তালিকায় জাপান এক ধাপ পিছিয়ে ১২তম স্থানে নেমে এসেছে। তবে দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দাদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩২ লাখ ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। জাপানের ৪৭টি অঞ্চলের মধ্যে কেবল টোকিও ও ওকিনাওয়ায় জনসংখ্যা বেড়েছে, বাকি ৪৫টিতে কমেছে।
জন্মহার কমার কারণ
অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ, অনিয়মিত কর্মসংস্থান, উচ্চ শিক্ষা ব্যয় এবং শহরের বাড়ির চড়া দাম তরুণ-তরুণীদের বিয়ে ও সন্তান ধারণে নিরুৎসাহিত করছে। পাশাপাশি লিঙ্গবৈষম্য ও কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতির কারণে সন্তান প্রতিপালনের প্রধান দায়িত্ব নারীর ওপরই বর্তাচ্ছে, যা জন্মহারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রভাব ও সমাধান
জন্মহার কমায় জাপানি সমাজ দ্রুত প্রবীণ সমাজে পরিণত হচ্ছে। বর্তমানে মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ শতাংশ প্রবীণ, যা ২০৭০ সাল নাগাদ ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সরকার ইতিমধ্যে শিশু ভাতা, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি নিতে উৎসাহিত করছে। কর্মী সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন খাতে অটোমেশন, রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।



















