মাঠে বল গড়াতে বাকি আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার কম। চার বছর পরপর এই সময়টায় ফুটবলপ্রেমীদের বুকে যে রোমাঞ্চের ঢেউ জাগার কথা, ২০২৬ বিশ্বকাপে তা যেন ঢাকা পড়ে গেছে একরাশ মেঘে। মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে উঠেছে মার্কিন ইমিগ্রেশনের কড়াকড়ি আর রাজনৈতিক কূটচাল। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের নানা বিতর্কে টুর্নামেন্টটি রূপ নিয়েছে এক মহাসংকটে। আর সেই সংকটের সর্বশেষ ও সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খেলেন আফ্রিকার শীর্ষ রেফারি ওমর আরতান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও প্রবেশসংক্রান্ত জটিলতায় দর্শকেরা সমস্যায় পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কা ছিল অনেক আগে থেকেই। কিন্তু খোদ ফিফার অফিশিয়াল রেফারিই যে মার্কিন ইমিগ্রেশনের মারপ্যাঁচে পড়ে দেশে ফেরত যাবেন, তা কে ভেবেছিল! বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত হয়েও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি সোমালিয়ার এই রেফারি।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘প্রত্যেক রেফারিরই স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপে যাওয়ার। যখন আপনি নির্বাচিত হন, তখন মনে হয়, বছরের পর বছরের সব পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।’ কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের এক সিদ্ধান্তে সেই সার্থকতা এখন ধূলিসাৎ।
হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেওয়া অ্যান্ড্রু গিলিয়ানি অবশ্য কাস্টমস ও বর্ডার প্যাট্রোলের এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারছি না, তবে কাস্টমস ও বর্ডার প্যাট্রোল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি সঠিক ছিল এবং আমি সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি।’ তাঁর এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনের অধীনে কেউই বিশেষ সুবিধা পাবে না—না খেলোয়াড়, না রেফারি, আর না সাধারণ সমর্থক।
এ ঘটনা ফিফাকে ফেলেছে এক চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। যেখানে টুর্নামেন্টের সেরা মেধাবীদের মেলবন্ধন হওয়ার কথা, সেখানে ফিফার নিজের প্রতিনিধিরই এমন হেনস্তা বিশ্ব–ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। মানবাধিকারবিষয়ক প্রচারণা সংগঠন ‘ফেয়ার’-এর নির্বাহী পরিচালক পিয়ারা পওয়ার যেমনটি বলেন, ‘ফিফার কোনো অফিশিয়াল রেফারিকে এভাবে প্রবেশে বাধা দেওয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগে এক অভূতপূর্ব ও অস্বাভাবিক ঘটনা। আসলে বিশ্বকাপ চালাচ্ছে কে? ফিফা, নাকি যুক্তরাষ্ট্র সরকার?’
ফিফা অবশ্য হাত ধুয়ে ফেলে জানিয়েছে, আয়োজক দেশের ভিসা বা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো হাত নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সব জেনেও ফিফা কেন পরিস্থিতি এ পর্যায়ে যেতে দিল?




















