এবার বিশ্বকাপে মোট সাড়ে সাত জোড়া ভাই খেলবেন। চোটের কারণে এক জোড়া থেকে একজন বাদ পড়েছেন। এই ‘সাড়ে সাত জোড়া’র মধ্যে চার জোড়া ভাই খেলবেন ভিন্ন ভিন্ন দলে।
প্রথমে একই দলে খেলা চার জোড়া ভাইকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক। ফ্রান্স দলে আছেন থিও হার্নান্দেজ ও লুকাস হার্নান্দেজ। নেদারল্যান্ডস দলে আছেন জুরিয়েন টিম্বার ও কুইনটেন টিম্বার। চোটের কারণে অবশ্য জুরিয়েন বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছেন। বাকি দুই জোড়া ভাই আছেন বিশ্বকাপে অভিষিক্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা কুরাসাও ও কেপ ভার্দে দলে। লারোস দুয়ার্তে ও দেরয় দুয়ার্তে খেলেন কেপ ভার্দের হয়ে। কুরাসাও দলে আছেন লিয়ান্দ্রো বাকুনা ও জুনিনিও বাকুনা।
আলাদা দলে খেলা চার জোড়া ভাইকেও চিনে নেওয়া যাক। আইভরিকোস্টের হয়ে খেলেন গুয়েলা দুয়ে, তার ভাই দেজিরে দুয়ে খেলেন ফ্রান্সের জার্সিতে। দেজিরে ও গুয়েলার জন্ম ফ্রান্সে হলেও গুয়েলা জাতীয় দল হিসেবে তার বাবার জন্মভূমিকে বেছে নেন।
উইলিয়ামস ভাইদের জন্ম স্পেনের বাস্ক প্রদেশে। বড় ভাই ৩২ বছর বয়সী ইনাকি উইলিয়ামস খেলেন তার বাবা-মায়ের জন্মভূমি ঘানার হয়ে। ছোট ভাই ২৩ বছর বয়সী নিকো উইলিয়ামস স্পেনের তারকা।
ঘানারই সেন্টারব্যাক ডেরিক লাকাসেনের ভাই ব্রায়ান ব্রবি এবার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের ব্যাকআপ স্ট্রাইকার। দুই ভাইয়ের মা একই হলেও বাবা ভিন্ন।
স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া সেন্টারব্যাক হ্যারি সউতারকে বিশ্বকাপ দলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তার দুই বছরের বড় ভাই জন সউতারকে বিশ্বকাপ দলে ডেকেছে স্কটল্যান্ড। স্কটল্যান্ডের অ্যাবেরডিনে দুই ভাইয়ের জন্ম। মা অস্ট্রেলিয়ান। সাত বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পান হ্যারি সউতার।
বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। গ্রুপ পর্বের সূচি অনুযায়ী এ পর্যায়ে বিশ্বকাপে ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই দেখার সুযোগ নেই। তবে এবার বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই ভাইয়ের দল। গত সপ্তাহে আইভরিকোস্টের বিপক্ষে ফ্রান্সের ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে গোল করেন গুয়েলা দুয়ে। গ্যালারিতে বসে ম্যাচটি দেখেন দেজিরে। ম্যাচ শেষে গুয়েলা বলেন, ‘হ্যাঁ, ম্যাচের আগে আমরা খুনসুটি করেছি। তবে দিন শেষে আমরা এক পরিবার এবং আমরা একে অপরের জন্য ভীষণ খুশি।’
গত কয়েক দশকে ইউরোপে অভিবাসনের জোয়ার আফ্রিকান জাতীয় দলগুলোর জন্য প্রতিভার এক বিশাল দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই দেশগুলো এখন প্রবাসী বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের দলে ভেড়াচ্ছে। আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, ডিআর কঙ্গো, মরক্কো, সেনেগাল এবং তিউনিসিয়ার মতো বিশ্বকাপ খেলা দলগুলোর ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে নিজ দেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়ের চেয়ে ইউরোপে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যাই বেশি।




















