জাপানের ফুকুওকায় একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে, যা অজমোটিক পাওয়ার ব্যবহার করে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো সোলার প্যানেল বা উইন্ড টারবাইন নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রযুক্তিতে কাজ করে, যার নাম অজমোটিক পাওয়ার।
এই প্রযুক্তিতে সাগর ও নদীর মোহনায় মিঠাপানি ও লোনাপানির মিলনস্থলে তৈরি হওয়া চাপ ব্যবহার করা হয়। এই চাপ দিয়ে বিশাল টারবাইন ঘোরানো হয় এবং জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
ফুকুওকার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বছরে প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার কিলোওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা ২২০ থেকে ৩০০টি পরিবারের বার্ষিক বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারে। এটি দুটি ফুটবল মাঠের সমান সোলার প্যানেলের উৎপাদিত বিদ্যুতের সমান।
অজমোটিক পাওয়ারের প্রধান সুবিধা হলো এটি সৌরবিদ্যুত ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নির্ভরযোগ্যতার সমস্যা থেকে মুক্ত। সমুদ্রের লোনাপানি কখনো ফুরিয়ে যায় না এবং অভিস্রবণ প্রক্রিয়া কখনো বন্ধ হয় না।
জাপানের আধুনিক মেমব্রেন প্রযুক্তি এবং শক্তির অপচয় রোধকারী পাম্প এই প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ করে তুলেছে। ফুকুওকার বিদ্যুৎকেন্দ্রে উন্নত মেমব্রেন ব্যবহার করা হয়েছে, যা উচ্চ চাপেও নিখুঁতভাবে কাজ করে।
বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। জাপান ও ডেনমার্কের পাশাপাশি নরওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন ও কাতারেও এর পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু হয়েছে।
জাপানের পরবর্তী লক্ষ্য আরও বড়। তারা এমন একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা সরাসরি বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড টেনে নিয়ে তাকে কৃত্রিম জ্বালানিতে রূপান্তর করবে। এই প্রযুক্তির নাম কৃত্রিম সালোকসংশ্লেষণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত বাধাগুলো পার হতে পারলে ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ মেটানো সম্ভব হতে পারে এই অজমোটিক পাওয়ারের সাহায্যে।
বাংলাদেশেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব, কারণ এখানে নদীমাতৃক দেশ এবং মিঠাপানি ও লোনাপানির মিলনস্থল রয়েছে।











