চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন জুলাই মাসের জনঘূর্ণিতে তার বুকে লেখা স্লোগান দিয়ে বিদ্রোহের মানব প্রাচীর হয়ে উঠেছিলেন। তার বুক ও পিঠে লেখা স্লোগান 'ফ্রি কোটা অর ডাই', 'কোটা থেকে মুক্তি দে, নইলে মরে কবর দে' এবং 'দফা এক দাবি এক, কোটা নট কামব্যাক' দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
মামুন ময়মনসিংহ সদরের চর এলাকার বর্তিপাড়া গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিভিন্ন ভৌগোলিক, পারিবারিক এবং আর্থিক অসুবিধা অতিক্রম করে তিনি ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন।
জুলাই মাসের বিদ্রোহের শুরু থেকেই মামুন চট্টগ্রামের রাস্তায় বিক্ষোভের সামনের সারিতে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তার বুকে 'ফ্রি কোটা অর ডাই' লেখা একটি ছবি প্রথম প্রকাশ করেছিল একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা, পরে বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছিল।
মামুন বলেছিলেন, 'আমি ১৫০ টাকায় একটি টিন পেইন্ট কিনে তিন দিন ধরে আমার বুক ও পিঠে বিভিন্ন স্লোগান লিখেছি। ৬ই জুলাই, ৭ই জুলাই এবং ৮ই জুলাই বিভিন্ন স্লোগান লিখেছি যেমন, 'চাষার ছেলে চাষা কেনো?', 'কোটা থেকে মুক্তি দে, নইলে মরে কবর দে', 'ফ্রি কোটা অর ডাই', 'দফা এক দাবি এক, কোটা নট কামব্যাক', 'বুলেট অর ইক্যুয়ালিটি (১৯৫২-২০২৪)' এবং 'বিপিএসসি, ওয়ে ওয়ান্ট ফেয়ার জব।'
মামুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও গেট নম্বর-১, শোলাসহার স্টেশন, টাইগারপাস, মুরাদপুর, নিউ মার্কেট এবং বাহাদ্দারহাটে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বিক্ষোভের সামনের সারিতে জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন।
মামুন বলেছিলেন, বিদ্রোহের সামনের সারিতে থাকার কারণে তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং জুবো লীগের নেতা ও কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশ তাকে খুঁজে বেড়াত।






























