মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ বলেছেন, প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক ঐক্য রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি। তিনি কুমিল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রথাগত রথযাত্রা উৎসবে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ঐক্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। কুমিল্লার ইতিহাসও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং শুভেচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়। যদিও বিভিন্ন সময়ে কিছু স্বার্থপর দল জাতিগত বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করেছে, তবে জনসাধারণের সচেতনতা এবং একতার কারণে তারা কখনও সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন যে, কোনও অসামাজিক বা চরমপন্থী শক্তি ভবিষ্যতে দেশের সাম্প্রদায়িক ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। 'আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য অনুসরণ করে আমাদের অবশ্যই পরস্পর সম্মান, সহনশীলতা এবং করুণা অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ এবং সমঝোতামূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য', তিনি যোগ করেন।
ধর্মীয় শিক্ষা এবং সামাজিক ঐক্য
আমিনুর রশিদ আরও উল্লেখ করেন যে, সমস্ত ধর্ম ন্যায়বিচার, শান্তি, মানব কল্যাণ এবং করুণার শিক্ষা দেয়। 'ধর্মকে বিভাজনের একটি হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়; বরং এটি মানবীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক ঐক্যের একটি উৎস হিসাবে কাজ করা উচিত', তিনি মত দেন।
রথযাত্রা উৎসবে ভক্তদের উত্সাহী অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই ধরনের উৎসবগুলি ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে শক্তিশালী করে এবং সামাজিক ঐক্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সমস্ত ধর্মাবলম্বীদের আহ্বান
মন্ত্রী বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষকে পরস্পর সম্মান এবং সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান, যাতে একটি অ-সাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়।
অন্যান্যদের মধ্যে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদ্বাতুল বারী আবু, ডেপুটি কমিশনার রোজী আখতার, পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা এবং এক বড় সংখ্যক ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।






























