ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন মাস পার হতে না হতেই আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করে তোলার কিছু প্রচেষ্টা চলমান। বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার বিচারের সম্ভাবনা ফিকে হয়ে আসা এবং জুলাই সনদের ব্যাপারে গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করা—এ দুই বাস্তবতায় আচমকা আওয়ামী লীগের ‘ফিরে আসা’র বয়ান ও যৌক্তিকতা তৈরিতে কোনো কোনো মহল বেশ তৎপর।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের একজন সাবেক উপদেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, গণ-অভ্যুত্থানপন্থী বিভিন্ন শক্তির নানা ধরনের ভুল ও বিভাজনের রাজনীতির কারণে আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে ‘ফিরে এসেছে’। তিনি আওয়ামী লীগের ফিরে আসা উচিত বলে মনে করেন না, তবে এই ‘ফিরে আসা’র দায় তিনি অভ্যুত্থানকারীদের ওপর চাপাতে চেয়েছেন।
আওয়ামী লীগের ফিরে আসা: বাস্তবতা নাকি মিথ্যাচার?
প্রথম আলোয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, গ্রাম-শহর সর্বত্র নাকি আওয়ামী লীগের ফেরার আলাপ শুরু হয়ে গেছে। তবে নেপালের মতো ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে পেরেছে এবং জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে পরাজিত করেছে—এই নজির টেনে বলার চেষ্টা করা হয়, আওয়ামী লীগকেও একই ‘সুযোগ’ দেওয়া উচিত ছিল।
গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধতা
গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। দুই-তৃতীয়াংশ আসনের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে আইন প্রণয়ন করেছে, তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, সে এক বড় প্রশ্ন।
নেপাল ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পার্থক্য
নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তফাত আকাশ-পাতাল। নেপালে কোনো অবৈধ ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়নি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে তিনটি বিতর্কিত ও অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনসম্মতিহীনভাবে ক্ষমতায় ছিল।
আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী ইতিহাস
আওয়ামী লীগ বারবার বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে শেখ মুজিবের শাসনামলে সব দল, সব পত্রিকা নিষিদ্ধ করে দিয়ে তিনি একদলীয় শাসন ‘বাকশাল’ কায়েম করেছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার শাসনামলে আরও নির্মম, আরও নিষ্ঠুর একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করে আওয়ামী লীগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আগে আদালতের মাধ্যমে প্রমাণ করে আসতে হবে তারা এই দেশের একটি রাজনৈতিক দল। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ নামে বাংলাদেশে কেউ রাজনীতি করতে পারবে না।



















