ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যরা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে দেন না। তাঁরা চান তাঁদের ব্যবহৃত প্রতিটি জিনিস যেন নষ্ট না হয়ে সবচেয়ে ভালো কোনো কাজে লাগে।
রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ কোনো পোশাক কেবল পছন্দ হচ্ছে না বলে ফেলে দেওয়া মোটেও পছন্দ করতেন না। তাঁর মধ্যে ছিল বিশ্বযুদ্ধের সময়ের সেই মিতব্যয়ী আর সাশ্রয়ী মানসিকতা।
রাণীর পুরোনো কাপড় কেটে নতুন করে অন্য পোশাক বানিয়ে নেওয়ার অনেক গল্প প্রচলিত আছে। বিশেষ করে প্রাসাদের ভেতরে যখন তিনি নিজের মতো করে সময় কাটাতেন, তখন ওই পুরোনো পোশাকগুলোই বারবার পরতেন।
কোনো পোশাক বারবার ব্যবহারের ফলে যখন একদম ছিঁড়ে যেত বা পরার অনুপযোগী হয়ে পড়ত, তখনো তা ফেলে দেওয়া হতো না। রাণী সেই কাপড়ের টুকরাগুলো ঘর মোছার কাপড় হিসেবে ব্যবহার করার নির্দেশ দিতেন।
রাণী এলিজাবেথের সাশ্রয়ী মনোভাব তাঁর পরিবারের অন্যদের মধ্যেও প্রভাব ফেলেছে। প্রিন্স ফিলিপ, রাজা চার্লস ও প্রিন্সেস অ্যান—একই পোশাক বারবার পরতে পছন্দ করেন।
রাজপরিবারের গয়নাগুলো সাধারণত এক হাত থেকে অন্য হাতে ঘোরে। রাজমুকুটগুলো দেশের সম্পদ হিসেবে গণ্য হলেও ব্যক্তিগত গয়নাগুলোর মালিক রাজপরিবারের সদস্যরা।
রাজপরিবারের দামি সব পোশাক চ্যারিটি শপে (দাতব্য কাজের জিনিসপত্র বিক্রির দোকান, মূলত অলাভজনক) পাওয়া যায়। প্রিন্সেস ডায়ানার অনেক পোশাক মাঝেমধ্যেই এমন দোকানে পাওয়া যেত।
রাজপরিবারের সদস্যরা অনেক সময় তাঁদের কর্মীদের পোশাক উপহার দেন। আর সেই কর্মীরাই আবার সেসব চ্যারিটি শপে দান করে দিতেন। ফলে কিছু পোশাক সাধারণ মানুষের কাছে চলে আসে।
রাজপরিবারের পুরোনো পোশাক নতুন করে পরা কিংবা কোনো জিনিসকে মেরামত করে আবার ব্যবহার করা নতুন কিছু নয়। তবে এই প্রথাকে আধুনিক সময়ে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও তাঁর স্বামী প্রিন্স ফিলিপ।


















