সেপ্টেম্বরের মধ্যে রংপুর শিশু হাসপাতাল চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এটি রংপুর বিভাগের শিশুদের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পথ প্রশস্ত করবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমেদ আজ হাসপাতাল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি হাসপাতালের আউটডোর ও ইনডোর ভবন, হাসপাতালের প্রবেশদ্বার, অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং অন্যান্য সুবিধা পরিদর্শন করেন।
হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শনের পর অতিরিক্ত সচিব হাসপাতাল চালু করার জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ক আধিকারিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সঙ্কট শোনেন। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ক্রয় এবং মানববল নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।’ পরে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রংপুর মাতৃ ও শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
সিভিল সার্জন অফিসের সূত্র অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর আগে রংপুর সদর হাসপাতালের প্রাঙ্গনে ১.৭৮ একর জমির উপর ১০০ শয্যার আধুনিক রংপুর শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ২০১৯ সালে প্রায় ৩১.৪৯ কোটি টাকা খরচে তিনতলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণের প্রথম পর্ব বাস্তবায়ন করেছে। হাসপাতালটি শিশুদের জন্য সমস্ত আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা, সরঞ্জাম এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রদান করবে।
মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতিটি তলায় ২০,৮৮২.৯৭ বর্গফুট এলাকা রয়েছে। এছাড়াও, একটি তিনতলা সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার চারতলা ভিত্তির উপর নির্মিত হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের এই প্রথম ১০০ শয্যার রংপুর শিশু হাসপাতালে শিশুদের উপযুক্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের জন্য সমস্ত আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থাকবে। প্রথম তলায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, আউটডোর বিভাগ, ডাক্তারদের চেম্বার এবং পরীক্ষাগার থাকবে।
দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার এবং বোর্ন ইউনিট থাকবে এবং তৃতীয় তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন থাকবে যেখানে শিশুরা বিশ্বমানের চিকিৎসা পাবে। বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একমাত্র শিশু বিভাগে বিশেষ স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান খুব কঠিন। রংপুরের খ্যাতিমান চিকিৎসক ডাঃ মফিজুল ইসলাম মান্টু বলেন, ‘সমস্ত আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সহ ১০০ শয্যার রংপুর শিশু হাসপাতাল চালু হওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং গুরুতর অস্ত্রোপচার সস্তা মূল্যে করা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন পূর্ণাঙ্গ রংপুর শিশু হাসপাতালের কর্মসূচি শুরু হবে, তখন পিতামাতারা শহরে থাকা অবস্থায় তাদের অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারবে।’ রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য ডেপুটি ডিরেক্টর ডাঃ এমডি ওয়াজেদ আলী, সিভিল সার্জন ডাঃ শাহীন সুলতানা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকরা এই সময় উপস্থিত ছিলেন।






























