মেনোপজ হলো মহিলাদের জীবনের একটি প্রাকৃতিক পর্যায়। এই সময়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ এবং জীবনযাপনের পরিবর্তন হরমোনের পরিবর্তনের সাথে জড়িত স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মেনোপজের প্রভাব এবং হরমোনের পরিবর্তন
মহিলারা সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে মেনস্ট্রুয়েশন বন্ধ করে দেয়। তবে যদি ডাক্তারি চিকিৎসার কারণে উভয় ডিম্বাশয় এবং জরায়ু অপসারণ করা হয় বা কিছু চিকিৎসার কারণে ডিম্বাশয়ের অকাল ব্যর্থতা হয়, তাহলে মেনোপজ আগেই ঘটতে পারে।
এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণ কমে যাওয়া। ইস্ট্রোজেন মহিলা প্রজনন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণ করে, ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু মুক্ত করতে সাহায্য করে এবং গর্ভাবস্থা এবং প্রসবের জন্য শরীর প্রস্তুত করে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যের গুরুত্ব
পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ইসরাত জাহান বলেছেন, মেনোপজের পরে ইস্ট্রোজেনের প্রভাব হ্রাস পায়, যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও ওজন বৃদ্ধি, রক্তে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
তিনি বলেছেন, মেনোপজের সময় মহিলারা প্রতিদিন প্রায় ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৮০০ আন্তর্জাতিক ইউনিট ভিটামিন ডি গ্রহণ করা উচিত। তাই তাদের দৈনন্দিন খাদ্যে দুধ, দুগ্ধজাত খাবার, পনির, সয়াবিন, বাদাম, আখরোট এবং ছোট মাছ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারগুলো হতাশা এবং অস্থিরতার মতো লক্ষণগুলো কমাতে সাহায্য করতে পারে। সেলেনিয়াম হট ফ্ল্যাশ কমাতে সাহায্য করতে পারে। যকৃৎ, টুনা মাছ, টমেটো, পেঁয়াজ, ব্রকলি এবং রসুন সেলেনিয়ামের ভালো উৎস। সয়া জাতীয় খাবার এবং বিন হট ফ্ল্যাশ ম্যানেজ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে মশলাদার খাবার, চা এবং কফি হট ফ্ল্যাশের তীব্রতা বৃদ্ধি করতে পারে।
মেনোপজের পরে স্বাস্থ্য রক্ষার গুরুত্ব
ইসরাত জাহান বলেছেন, মেনোপজের পরে চুল পড়ার অতিরিক্ত পরিমাণ কমানো এবং ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার যেমন সয়াবিন, বাদাম, অঙ্কুরিত শাকসবজি এবং ডিম খাওয়া উচিত।






























