তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা ভারতীরাজা মারা গেছেন। বয়সজনিত জটিলতায় আজ বুধবার (১০ জুন) চেন্নাইয়ের নিজ বাসভবনে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তাঁর মৃত্যুতে এমন এক নির্মাতার অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো, যিনি তামিল সিনেমার গল্প বলার ভাষা বদলে দিয়েছিলেন। অনেকের মতে, তামিল সিনেমার ইতিহাসকে ‘ভারতীরাজার আগে’ ও ‘ভারতীরাজার পরে’—এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
ভারতীরাজার অবদান
ভারতীরাজার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তামিল গ্রামের জীবনকে চলচ্চিত্রের কেন্দ্রে নিয়ে আসা। তাঁর আগে অধিকাংশ তামিল চলচ্চিত্রের শুটিং হতো স্টুডিও সেটে, আর গ্রাম ছিল কেবল গল্পের পটভূমি। কিন্তু ভারতীরাজা গ্রাম, সেখানকার মানুষ, তাদের সম্পর্ক, সংস্কৃতি, আনন্দ-বেদনা ও সামাজিক বাস্তবতাকে জীবন্ত চরিত্রে পরিণত করেন। ‘কিঝাক্কে পোগুম রেল’, ‘পুধিয়া ভারপুগাল’, ‘আলাইগাল ওইভাথিল্লাই’, ‘মান ভাসানাই’ ও ‘করুথাম্মা’সহ তাঁর বহু চলচ্চিত্র এই ধারার সাক্ষ্য বহন করে।
প্রেমের গল্প ও নতুন প্রতিভা
প্রেম ছিল ভারতীরাজার চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান বিষয়। তবে তাঁর প্রেমের গল্পগুলো ছিল সামাজিক বিধিনিষেধ, ধর্মীয় বিভাজন ও জাতপাতের বাস্তবতার সঙ্গে সংঘর্ষময়। নতুন প্রতিভা আবিষ্কারেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাধিকা, রাধা, আম্বিকা ও রেবতীর মতো অভিনেত্রীদের তিনি চলচ্চিত্রে পরিচিত করে তোলেন।
পুরস্কার ও সম্মান
ভারতীরাজা ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন।



















