নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের কাছে রম্ভা ছিলেন গ্ল্যামার, প্রাণবন্ত নাচ আর বাণিজ্যিক ছবির সফলতার এক প্রতীক। দক্ষিণ ভারত থেকে বলিউড পর্যন্ত তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। তবে আজ তিনি চলচ্চিত্রজগৎ থেকে দূরে, পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে কানাডায় শান্ত জীবন কাটাচ্ছেন।
রম্ভার জীবনের নানা রঙ
রম্ভার আসল নাম বিজয়লক্ষ্মী। ১৯৭৬ সালের ৫ জুন ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে বিজয়লক্ষ্মীর শৈশব কেটেছে একেবারেই সাধারণ পরিবেশে। স্কুলজীবনেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাচে তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। এক স্কুল অনুষ্ঠানে তাঁর পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হন চলচ্চিত্র নির্মাতারা। সেখান থেকেই শুরু হয় অভিনয়ের পথচলা।
চলচ্চিত্রে অভিষেক ও সাফল্য
মাত্র কিশোরী বয়সে বিজয়লক্ষ্মী চলচ্চিত্রে সুযোগ পান। মালয়ালম ছবি ‘সারগম’ দিয়ে তাঁর অভিনয়ে অভিষেক হয়। তেলুগু ছবি ‘আ ওক্কাতি আডাক্কু’ বিজয়লক্ষ্মীকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি। এই ছবির একটি চরিত্রের নাম থেকেই তাঁর নতুন নাম হয়—রম্ভা। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার নতুন ঝলক নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে রম্ভা দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় এক ঝড়ের নাম। তামিল, তেলুগু, মালয়ালম ও কন্নড়—চারটি বড় ইন্ডাস্ট্রিতেই সমান জনপ্রিয়তা পান তিনি।
বলিউডে আগমন
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় সাফল্যের পর বলিউডের দরজাও খুলে যায় রম্ভার জন্য। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জুদওয়া’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন সালমান খানের বিপরীতে। ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায় এবং রম্ভা সারা ভারতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
বিতর্ক ও ব্যক্তিগত জীবন
ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে থাকতেই রম্ভার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। ২০১০ সালে তিনি কানাডাপ্রবাসী ব্যবসায়ী ইন্দ্রকুমার পাঠমানাথনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান রম্ভা। বর্তমানে তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
নতুন জীবন ও টেলিভিশনে দ্বিতীয় ইনিংস
চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে গেলেও বিনোদনজগৎ পুরোপুরি ছাড়েননি রম্ভা। বিভিন্ন টেলিভিশন রিয়েলিটি শোতে বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। নাচ ও বিনোদনভিত্তিক অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের কাছে ভালোই গ্রহণযোগ্যতা পায়।



















