প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, সরকার নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ, সৃজনশীল এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি সমন্বিত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষাব্যবস্থা পাঠ্যপুস্তকের বাইরে যাবে এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্য শিক্ষক নির্দেশিকা, কর্মপুস্তিকা, প্রতিকারমূলক নির্দেশিকা এবং ভিডিও পাঠ প্রদান করবে, যা শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের ভিতরে এবং বাইরে উভয় জায়গায় শিক্ষা গ্রহণে সহায়তা করবে।
প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি পর্যায়ের নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্ত করার ওয়ার্কশপে বক্তব্য
হাজ্জাজ এই মন্তব্য করেন ঢাকার সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য চারটি নতুন প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্ত করার ওয়ার্কশপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান শিক্ষাকে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই লক্ষ্যে সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, দক্ষতা-ভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে সম্পর্কিত জাতীয় পাঠ্যক্রম চালু করার জন্য কাজ করছে।
বর্তমানে প্রস্তুত করা হচ্ছে এমন পাঠ্যপুস্তক যা ভবিষ্যতের পাঠ্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নতুন পাঠ্যক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
হাজ্জাজ বলেন, নতুন পাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীদের মুখস্থকরণ থেকে দূরে সরিয়ে ব্যবহারিক দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সৃজনশীলতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের উপর বেশি গুরুত্ব দেবে।
এটি শিক্ষা এবং বাস্তব জীবনের প্রয়োগের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে।
সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলা শিক্ষার গুরুত্ব
তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক এবং খেলাধুলা শিক্ষা শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক এবং নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সাংস্কৃতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ এবং জাতীয় পরিচয় সম্পর্কে আরও গভীর বোঝাপড়া অর্জন করবে এবং তাদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশ করবে।
খেলাধুলা শিক্ষা নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহযোগিতা, দলগত কাজ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলবে বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব
রাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষক প্রশিক্ষণকে নতুন পাঠ্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
দেশের প্রায় ৬৫,০০০ সরকারি প্রাইমারি স্কুলের বাস্তবতা বিবেচনা করে পাঠ্যক্রমটি বাস্তবসম্মত, বাস্তবায়নযোগ্য এবং শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত একাডেমিক চাপ না রেখে ডিজাইন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।






























