পঞ্চগড়ের বোড়া উপজেলার ৫,৮৯০ কৃষকের কৃষি ঋণের মূল ও সুদ ছাড় দেওয়া হবে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত। এ জন্য ৮.৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জলসম্পদ রাষ্ট্রমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর অংশ হিসেবে কৃষক-বন্ধুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। তিনি বলেছেন, কৃষি খাতের উন্নতি ও কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে কৃষি ঋণ ও সুদ ছাড় দেওয়ার নীতি গৃহীত হয়েছে। ফলে কৃষকরা নতুন করে ঋণ গ্রহণ করতে পারবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে।
মন্ত্রী আজাদ বলেছেন, বোড়া উপজেলায় ২৯,৪৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের অঙ্কুর বিতরণ করা হবে কৃষকদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে। তিনি বলেছেন, কৃষি খাত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে কারণে কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি গাছ লাগানোর কর্মসূচিকে জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেছেন, কৃষকদের আর্থিক চাপ কমানো এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করা সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেছেন, কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল চালিকা শক্তি। তাই তাদের আর্থিক চাপ কমানো এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আজাদ বলেছেন, সরকার কৃষি খাতকে কেবল উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে দেখে না। তারা কৃষি খাতকে অর্থনীতির একটি টেকসই খাত হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি, সহজ কৃষি ঋণ, সেচ ব্যবস্থা, উন্নত বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ প্রদানের পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী হলে গ্রামীণ অর্থনীতিও বেশি জীবন্ত হবে। তিনি বলেছেন, কৃষকরা বেঁচে থাকলে দেশ বেঁচে থাকবে। তাই সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো। সরকার সেই দায়িত্ব পালনে চেষ্টা করছে।
মন্ত্রী আজাদ বলেছেন, কৃষকদের ঋণ ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ থেকে তারা নতুন করে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করতে পারবে। গাছ লাগানোর উদ্যোগ থেকে ভবিষ্যতের জন্য পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, কৃষি বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করুক সমন্বিতভাবে।
মন্ত্রী আজাদ বলেছেন, কৃষকদের সমর্থন করাই নয়, তাদের মর্যাদা দিয়ে চলতে হবে। কারণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় কৃষকদের পরিশ্রমে। তিনি বলেছেন, এই কর্মসূচি মর্যাদার প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে।





























