অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার ১১টি কারণ উল্লেখ করেছেন। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, ব্যবসায়িক ক্ষতি, শিল্প উৎপাদনে ঘাটতি, মুনাফা হ্রাসসহ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার ১১টি কারণ জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কারণগুলো তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে (জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অংশ) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যার বিপরীতে আহরণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ দশমিক শূন্য ৪ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে (জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অংশ) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ দশমিক ২৭ কোটি টাকা। যার বিপরীতে আহরণ করা হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ দশমিক ১৬ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার ৭৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক পটপরিবর্তনজনিত সাময়িক শূন্যতা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিপর্যয়, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং সামষ্টিক অর্থনীতির মন্দাভাব। তবে বছরের শেষ ভাগে অটোমেশন ও কর ফাঁকি রোধে এনবিআরের কঠোর অবস্থান এই ঘাটতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে।
লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার যেসব কারণ অর্থমন্ত্রী তুলে ধরেছেন, তার মধ্যে আছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক সরকার না থাকা, বিনিয়োগ কম, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা, উৎপাদন ও সরবরাহ কম, মূসক ও সম্পূরক শুল্ক প্রদানকারী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ কম, আমদানি কম, উৎপাদন ও সরবরাহ কম, মূসক ও সম্পূরক শুল্ক প্রদানকারী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া।
২৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ শুল্কহারবিশিষ্ট পণ্যের আমদানি বিগত বছরের চেয়ে যথাক্রমে ১৮ ও ৩৭ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থান এবং সরকার পরিবর্তনের কারণে দেশজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে এবং খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা–বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, যা সরাসরি করপোরেট কর আহরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।



















