দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ের ধসের কারণে উৎপন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ত্রাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্ষতির পরিমাণ
চট্টগ্রাম জেলায় ৯,২০৮টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৬,০২০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১,৫৯২ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু ও কালভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল যা এখন বন্ধ হয়ে গেছে কারণ বন্যার পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে।
ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজ
সরকার ১,২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৯৫ লক্ষ টাকা ত্রাণ হিসাবে বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে ১,০৮০ মেট্রিক টন চাল, ৮৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা এবং ৫৬,১০০ টি শুকনো খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। বেশ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে এবং ২৯টি সংবেদনশীল স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্স্থাপন করা হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি জেলায় ২৭৫টি বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৭৬৬টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে ১১২০.৯৮ লক্ষ টাকা এবং মৎস্যক্ষেত্রে ৬৫১ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। জেলায় ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল এবং ত্রাণ সামগ্রী হিসাবে ৪০০ মেট্রিক টন চাল, ৪০ লক্ষ টাকা এবং ৪৬ বান্ডেল করুগেটেড শীট বিতরণ করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলায় ২,৪৭৫টি বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫,৭৭৩টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে ৮০ কোটি টাকা এবং মৎস্যক্ষেত্রে ৪৬ কোটি ২২ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। জেলায় ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল এবং ৪৪৫ মেট্রিক টন চাল এবং ৪৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ত্রাণ হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলায় খোয়াই নদীর ভাঙনের কারণে হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলায় ৪,৫৫০টি পরিবার বন্যায় আটকা পড়েছিল। বর্ষণ হ্রাস পাওয়ায় জল পিছু হতে শুরু করেছে। জেলায় দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলায় মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বন্যার পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। সরকার ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে এবং ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ত্রাণ হিসাবে বিতরণ করেছে।
বান্দরবান জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। জেলায় বিভিন্ন ত্রাণ বন্টন করা হয়েছে এবং সচেতনতা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।





























